গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা পূর্ব শত্রুতার জেরে কাকন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবদল নেতার ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার দুই পা মারাত্মকভাবে জখম করার পাশাপাশি হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কাকন মিয়া ওই ইউনিয়নের দূর্বলাগাড়ী গ্রামের মিরু মণ্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং বরিশাল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে কাকন মিয়া জুনদহ বাজারে অবস্থান করছিলেন। এসময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাকন হাত দিয়ে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তার ডান হাতের কবজি গভীরভাবে কেটে যায় এবং একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই পা গুরুতর জখম ও ভেঙে যায়। স্থানীয়রা চিৎকার করে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, কাকনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটময়। তার পা ও হাতের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, “দুর্বৃত্তদের হামলায় কাকন নামের এক যুবক মারাত্মক জখম হয়েছেন। খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”





















