আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
সদ্য মেয়াদোত্তীর্ণ ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির সীমা স্বেচ্ছায় আরও কিছুদিন মেনে চলার জন্য রাশিয়ার দেওয়া প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প একটি ‘নতুন ও আধুনিক’ চুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
ট্রাম্পের অবস্থান: ‘পুরোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর’
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আগের পারমাণবিক চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল একটি ‘বাজে সমঝোতা’। তার দাবি, এই চুক্তিটি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি বলেন, পুরোনো চুক্তির মেয়াদ না বাড়িয়ে বরং দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও আধুনিক চুক্তি করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন, যদিও বেইজিং এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ক্রেমলিন দুঃখ প্রকাশ করেছে। রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া পারমাণবিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ‘দায়িত্বশীল’ থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এর আগে পুতিন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজি থাকলে রাশিয়া আরও এক বছর চুক্তির শর্ত মেনে চলতে প্রস্তুত। কিন্তু ওয়াশিংটন মনে করছে, এই চুক্তি বজায় থাকলে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হবে।
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্বের দুই প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা সীমা রইল না। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
১৯৯১: যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম ‘স্টার্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২০১০: বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিতে সই করেন।
২০২১: জো বাইডেন ও ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তির মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ পর্যন্ত করেন।
* সীমাবদ্ধতা: এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ সর্বোচ্চ ১,৫৫০টি ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র/বোমারু বিমান মোতায়েন রাখতে পারত।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আবুধাবিতে মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিরা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করলেও দাপ্তরিকভাবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পথ এখন রুদ্ধ। একদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পারমাণবিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর পারস্পরিক উত্তেজনা— সব মিলিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে।





















