১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দাবি আদায়ে অনড় যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা: উপাচার্যকে এবার ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬০

যবিপ্রবি প্রতিনিধি পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্যকে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে দাবি আদায়ে প্রশাসনকে দেওয়া আল্টিমেটাম পার হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এসময় তাদের কণ্ঠে “যবিপ্রবির অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “দালালি না আজাদি, আজাদি আজাদি”, এবং “আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম” এর মতো স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের মৌলিক ও যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বছরের পর বছর কেবল আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
আন্দোলনে সক্রিয় ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তপু ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন:
> “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এই লাল কার্ড প্রদর্শন মূলত প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী হুঁশিয়ারি। আমরা সংঘাত চাই না, তবে আলোচনা ও দ্রুত কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”
>
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: ‘মূলা প্রদর্শন’ থেকে ‘লাল কার্ড’
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:
১. ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
২. অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও একাডেমিক ভোগান্তি নিরসন।
৩. মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা।
৪. ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫. অন্ধকারাচ্ছন্ন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
উল্লেখ্য যে, গত ৩১ জানুয়ারি একই দাবিতে উপাচার্যকে ‘মূলা প্রদর্শন’ করে এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই সময় দাবি পূরণে প্রশাসনকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পার হয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এবার লাল কার্ড প্রদর্শন করে তাদের চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।

উপাচার্যকে লাল কার্ড প্রদর্শনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই ধারাবাহিক আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নিতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর ইনস্টিটিউট নির্বাচন: ২০ পদের মধ্যে ১৭টিতে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’র জয়

দাবি আদায়ে অনড় যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা: উপাচার্যকে এবার ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন

আপডেট: ১২:০০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যবিপ্রবি প্রতিনিধি পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্যকে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে দাবি আদায়ে প্রশাসনকে দেওয়া আল্টিমেটাম পার হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এসময় তাদের কণ্ঠে “যবিপ্রবির অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “দালালি না আজাদি, আজাদি আজাদি”, এবং “আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম” এর মতো স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের মৌলিক ও যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বছরের পর বছর কেবল আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
আন্দোলনে সক্রিয় ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তপু ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন:
> “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এই লাল কার্ড প্রদর্শন মূলত প্রশাসনের অবহেলার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী হুঁশিয়ারি। আমরা সংঘাত চাই না, তবে আলোচনা ও দ্রুত কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”
>
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: ‘মূলা প্রদর্শন’ থেকে ‘লাল কার্ড’
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:
১. ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
২. অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও একাডেমিক ভোগান্তি নিরসন।
৩. মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা।
৪. ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫. অন্ধকারাচ্ছন্ন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
উল্লেখ্য যে, গত ৩১ জানুয়ারি একই দাবিতে উপাচার্যকে ‘মূলা প্রদর্শন’ করে এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই সময় দাবি পূরণে প্রশাসনকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পার হয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এবার লাল কার্ড প্রদর্শন করে তাদের চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।

উপাচার্যকে লাল কার্ড প্রদর্শনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই ধারাবাহিক আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নিতে পারে।