১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী আর নেই

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১২

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) প্রেসিডেন্ট এবং প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার ইসলামাবাদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এজেকে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ও সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে না পেরে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোববার বিকেল ৪টায় মীরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন কাশ্মীর রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ স্তম্ভ। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য:
* জন্ম: ১৯৫৫ সালের ৯ আগস্ট, মীরপুরের চিচিয়ান গ্রামে।
* শিক্ষা: রাওয়ালপিন্ডিতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
* সংসদীয় ক্যারিয়ার: তিনি মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
* নেতৃত্ব: ২০২১ সালে এজেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও পালন করেছেন।
* দলীয় সম্পৃক্ততা: তিনি মুসলিম কনফারেন্স, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (এজেকে শাখা) এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (এজেকে শাখা) নেতৃত্বের সাথে যুক্ত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীর সমস্যা তুলে ধরতে সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস ও বার্লিনসহ বিশ্বের বড় বড় শহরে কাশ্মীরিদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি একমাত্র এজেকে নেতা যিনি ভারত-শাসিত কাশ্মীর সফরের অনুমতি পেয়েছিলেন এবং শ্রীনগরের লালচকে জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন:
“সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি সারাজীবন কাশ্মীরি জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ভারতীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী কণ্ঠস্বর ইতিহাস স্মরণ রাখবে।”

সর্বাধিক পঠিত

ষড়যন্ত্রের শিকার অনিন্দ্য ইসলাম অমিত: মধ্যরাতে বিতর্কিত স্টিকার সাঁটিয়ে অপপ্রচারের চেষ্টা

আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী আর নেই

আপডেট: ০৬:০০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) প্রেসিডেন্ট এবং প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার ইসলামাবাদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এজেকে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ও সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে না পেরে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোববার বিকেল ৪টায় মীরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন কাশ্মীর রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ স্তম্ভ। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য:
* জন্ম: ১৯৫৫ সালের ৯ আগস্ট, মীরপুরের চিচিয়ান গ্রামে।
* শিক্ষা: রাওয়ালপিন্ডিতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
* সংসদীয় ক্যারিয়ার: তিনি মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
* নেতৃত্ব: ২০২১ সালে এজেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও পালন করেছেন।
* দলীয় সম্পৃক্ততা: তিনি মুসলিম কনফারেন্স, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (এজেকে শাখা) এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (এজেকে শাখা) নেতৃত্বের সাথে যুক্ত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীর সমস্যা তুলে ধরতে সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস ও বার্লিনসহ বিশ্বের বড় বড় শহরে কাশ্মীরিদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি একমাত্র এজেকে নেতা যিনি ভারত-শাসিত কাশ্মীর সফরের অনুমতি পেয়েছিলেন এবং শ্রীনগরের লালচকে জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন:
“সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি সারাজীবন কাশ্মীরি জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ভারতীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী কণ্ঠস্বর ইতিহাস স্মরণ রাখবে।”