১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না পাকিস্তান: ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে আইসিসি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৪

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এর অংশীদাররা এক নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকলেও আইসিসি টুর্নামেন্টে তাদের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি)। ম্যাচটি না হওয়া মানে বৈশ্বিক ক্রিকেট অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ ধসে পড়া।

বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে এই ম্যাচের আকর্ষণ আকাশচুম্বী। মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫-৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করে থাকে। ম্যাচটি বাতিল হলে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় হারাবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে মূল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিও-স্টার’ ইতিমধ্যেই আইসিসির কাছে বড় অঙ্কের ‘রিবেট’ বা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে।

এই আর্থিক ক্ষতির প্রভাব শুধু বড় দেশগুলোর ওপর নয়, বরং আইসিসির সহযোগী ও ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ওপরও পড়বে। আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্বের ওপর নির্ভরশীল এই দেশগুলোর বাৎসরিক বাজেট কাটছাঁট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে:
* ভারত ও পাকিস্তান—উভয় বোর্ডই সরাসরি প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে লোকসানের মুখে পড়বে।
* ভারতের জন্য এই ধাক্কা সামলানো সম্ভব হলেও, পিসিবির ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য এটি বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
* দীর্ঘমেয়াদে ব্রডকাস্টাররা পাকিস্তানের ম্যাচগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশটির ক্রিকেট বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরবর্তী পরিস্থিতি
আইসিসি এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার পথ খুঁজছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের সমীকরণ ও বাণিজ্যিক কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

এক দিনেই দুই দফা ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না পাকিস্তান: ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে আইসিসি

আপডেট: ০৬:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এর অংশীদাররা এক নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকলেও আইসিসি টুর্নামেন্টে তাদের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি)। ম্যাচটি না হওয়া মানে বৈশ্বিক ক্রিকেট অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ ধসে পড়া।

বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে এই ম্যাচের আকর্ষণ আকাশচুম্বী। মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫-৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করে থাকে। ম্যাচটি বাতিল হলে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় হারাবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে মূল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিও-স্টার’ ইতিমধ্যেই আইসিসির কাছে বড় অঙ্কের ‘রিবেট’ বা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে।

এই আর্থিক ক্ষতির প্রভাব শুধু বড় দেশগুলোর ওপর নয়, বরং আইসিসির সহযোগী ও ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ওপরও পড়বে। আইসিসির কেন্দ্রীয় রাজস্বের ওপর নির্ভরশীল এই দেশগুলোর বাৎসরিক বাজেট কাটছাঁট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে:
* ভারত ও পাকিস্তান—উভয় বোর্ডই সরাসরি প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে লোকসানের মুখে পড়বে।
* ভারতের জন্য এই ধাক্কা সামলানো সম্ভব হলেও, পিসিবির ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য এটি বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
* দীর্ঘমেয়াদে ব্রডকাস্টাররা পাকিস্তানের ম্যাচগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশটির ক্রিকেট বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরবর্তী পরিস্থিতি
আইসিসি এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার পথ খুঁজছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের সমীকরণ ও বাণিজ্যিক কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।