আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরের কর্মকাণ্ডে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা ও ঘাটতির পরিমাণই বেশি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, জুলাই আন্দোলনের চেতনা থেকে রাজনীতিবিদ ও আমলারা কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি এবং মব কালচারের কারণে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
টিআইবি জানায়, গত ১৭ মাসে দেশে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৮ জন এবং আহত হয়েছেন সাত হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনেই ১৫ জন নিহত হয়েছেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মব বা গণপিটুনির সংস্কৃতি সরকারের ভেতর (সচিবালয়) থেকেই শুরু হয়েছে, যা পরে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে সরকারের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে তা যথেষ্ট শক্তিশালী বা মজবুত নয়। টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের অপব্যবহারের প্রকট দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে।
* নিরাপত্তা সংকট: থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যা নির্বাচনের আগে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
: মাঠ প্রশাসনে উপদেষ্টাদের দলীয়করণ এবং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও কৌঁসুলি নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি। এছাড়া গুমের তদন্ত ও র্যাব বিলুপ্তির মতো মানবাধিকার বিষয়ক সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ ও আহতদের অনুদান প্রদানেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কর্মীদের সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, মব সন্ত্রাস কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি মনে করে, প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মতো অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।


















