যশোরের কেশবপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (মউশিক) প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার কেশবপুর প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মউশিক কেশবপুর শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ শরীফ।
এর আগে সোমবার মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ-এর কেশবপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৯৩ সালে দেশের শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্য নিয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সফলভাবে সাতটি পর্যায় সম্পন্ন করে বর্তমানে অষ্টম পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ১ম থেকে ৬ষ্ঠ পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং ৭ম পর্যায়ে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক ও সহজ কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে এ প্রকল্পে প্রায় ৭১ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা অত্যন্ত স্বল্প ভাতা ও চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ তারা শুধু পাঠদান নয়, সরকারি তহবিলে জাকাত সংগ্রহ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণাসহ সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তারা বলেন, এতসব অবদান রাখার পরও এই বিশাল শিক্ষক সমাজ চরম অবমূল্যায়ন ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* মউশিক প্রকল্প দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা,
* সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও কর্মচারীদের সরকারি গ্রেড অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান,
* চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম মফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, ইমরান হোসেন, কেয়ারটেকার আকবর আলী, রুস্তম আলী ও কামরুজ্জামান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত মউশিক প্রকল্পের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাবেন।




















