০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের আশঙ্কা ৩৯০ ছাড়িয়েছে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৫০৭

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-তে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৩৯০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া। তিনি বিবিসি-কে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যে ইবোলা স্ট্রেইনটি ছড়াচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা কার্যকর টিকা নেই। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, আইসোলেশন এবং এমনকি মৃতদের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর জনস্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরি।

এদিকে মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, প্রতিবেশী উগান্ডা-তেও দুইজনের ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বান্ডিবুগিও ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে রোগটির বিস্তার দ্রুত বাড়ছে এবং এটি স্থানীয় সীমা ছাড়িয়ে আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ডব্লিউএইচও আরও সতর্ক করেছে, এখন পর্যন্ত যেসব রোগী শনাক্ত ও রিপোর্ট করা হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সম্ভবত তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। দুর্গম এলাকা, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, রক্ত কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এ রোগের প্রধান লক্ষণ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি-সহ বিভিন্ন দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় মোট ১১ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হয়।

সর্বাধিক পঠিত

কেশবপুরে মউশিক কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের আশঙ্কা ৩৯০ ছাড়িয়েছে

আপডেট: ১০:৩৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-তে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৩৯০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া। তিনি বিবিসি-কে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যে ইবোলা স্ট্রেইনটি ছড়াচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা কার্যকর টিকা নেই। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, আইসোলেশন এবং এমনকি মৃতদের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর জনস্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরি।

এদিকে মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, প্রতিবেশী উগান্ডা-তেও দুইজনের ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বান্ডিবুগিও ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে রোগটির বিস্তার দ্রুত বাড়ছে এবং এটি স্থানীয় সীমা ছাড়িয়ে আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ডব্লিউএইচও আরও সতর্ক করেছে, এখন পর্যন্ত যেসব রোগী শনাক্ত ও রিপোর্ট করা হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সম্ভবত তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। দুর্গম এলাকা, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, রক্ত কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এ রোগের প্রধান লক্ষণ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি-সহ বিভিন্ন দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় মোট ১১ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হয়।