০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভারতীয় ভিসা জটিলতায় বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রী সংকট

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৫০৯

ভারতের ভ্রমণ ভিসায় আরোপিত বিধিনিষেধ এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে দিন দিন কমে যাচ্ছে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। একসময় যাত্রীদের কোলাহলে মুখর থাকা টার্মিনাল এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার ভ্রমণ ভিসায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা চালু হলেও পর্যটন, ব্যবসা ও অন্যান্য ভিসা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এর প্রভাব পড়েছে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও ভ্রমণ খাতে। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যাতায়াতকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৭২৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫৭৪ জন, ভারতীয় ১৫০ জন এবং অন্য দেশের ১ জন নাগরিক ছিলেন।

বেনাপোলের মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান বলেন, একসময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের ব্যস্ততা, ট্রাভেল এজেন্সি, মানি এক্সচেঞ্জ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। বর্তমানে যাত্রী কমে যাওয়ায় সর্বত্র স্থবিরতা বিরাজ করছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রী সংকটের কারণে ট্রাভেল এজেন্সি, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পাসপোর্টধারী যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ভারতে চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য এখনো ভিসা পেতে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভারতের নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হলেও এখনো সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ভারত সরকার দ্রুত ভ্রমণ ভিসা স্বাভাবিক করলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পর্যটন ও সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতিতেও আবার গতি ফিরবে।

সর্বাধিক পঠিত

ভারতীয় ভিসা জটিলতায় বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রী সংকট

ভারতীয় ভিসা জটিলতায় বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যাত্রী সংকট

আপডেট: ০৮:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভারতের ভ্রমণ ভিসায় আরোপিত বিধিনিষেধ এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে দিন দিন কমে যাচ্ছে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। একসময় যাত্রীদের কোলাহলে মুখর থাকা টার্মিনাল এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার ভ্রমণ ভিসায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা চালু হলেও পর্যটন, ব্যবসা ও অন্যান্য ভিসা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এর প্রভাব পড়েছে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও ভ্রমণ খাতে। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যাতায়াতকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৭২৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫৭৪ জন, ভারতীয় ১৫০ জন এবং অন্য দেশের ১ জন নাগরিক ছিলেন।

বেনাপোলের মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান বলেন, একসময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের ব্যস্ততা, ট্রাভেল এজেন্সি, মানি এক্সচেঞ্জ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। বর্তমানে যাত্রী কমে যাওয়ায় সর্বত্র স্থবিরতা বিরাজ করছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রী সংকটের কারণে ট্রাভেল এজেন্সি, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পাসপোর্টধারী যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ভারতে চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য এখনো ভিসা পেতে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভারতের নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হলেও এখনো সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ভারত সরকার দ্রুত ভ্রমণ ভিসা স্বাভাবিক করলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পর্যটন ও সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতিতেও আবার গতি ফিরবে।