০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টানা বজ্রবৃষ্টিতে ২৯ গরুর মৃত্যু, দুইজনের মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় টানা দুই দিনের বজ্রবৃষ্টি ও বজ্রপাতে অন্তত ২৯টি গরু মারা গেছে। এতে ২৩ জন কৃষক ও খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে মৃত গবাদিপশুর সংখ্যা আরও বেশি। এই দুর্যোগে কৃষকদের প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রপাতে এসব গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজন মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ জানান,
“মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রপাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার তথ্য আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এতে ২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃত গরুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।”

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, বালিয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার এবং মহিপুর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের নূর হোসেনসহ আরও অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বজ্রপাতে শুধু দুধেল গাভিই নয়, ছোট বাছুর এবং কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা গরুও মারা গেছে।
কয়েকদিন পরই এসব গরু বিক্রি করে লাভের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান বলেন,
“মাঠে বাঁধা আমার দুধের গরুটি বজ্রপাতে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। এতে আমার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”এদিকে, বজ্রপাতের শব্দে সেতারা বেগম (৫৫) নামে এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বাড়ির পাশের মাঠে গরু চরাতে নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তিনি ওই গ্রামের মো. বাদশা মিয়ার স্ত্রী।
একই দিন দুপুর ১টার দিকে ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান মো. জহির। তিনি ইউনুস মিস্ত্রীর ছেলে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য ও ঢেউটিন প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন,
“বজ্রপাতে গবাদিপশু হারানো কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কলাপাড়ার কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও হতাশার ছায়া। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে বিনিয়োগ করা কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়।

সর্বাধিক পঠিত

নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে রাতের মিছিল: যশোরে সাবেক মন্ত্রী-৫ সাবেক এমপিসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টানা বজ্রবৃষ্টিতে ২৯ গরুর মৃত্যু, দুইজনের মৃত্যু

আপডেট: ০৩:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় টানা দুই দিনের বজ্রবৃষ্টি ও বজ্রপাতে অন্তত ২৯টি গরু মারা গেছে। এতে ২৩ জন কৃষক ও খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে মৃত গবাদিপশুর সংখ্যা আরও বেশি। এই দুর্যোগে কৃষকদের প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রপাতে এসব গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজন মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ জানান,
“মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রপাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার তথ্য আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এতে ২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃত গরুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।”

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, বালিয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার এবং মহিপুর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের নূর হোসেনসহ আরও অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বজ্রপাতে শুধু দুধেল গাভিই নয়, ছোট বাছুর এবং কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা গরুও মারা গেছে।
কয়েকদিন পরই এসব গরু বিক্রি করে লাভের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান বলেন,
“মাঠে বাঁধা আমার দুধের গরুটি বজ্রপাতে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। এতে আমার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”এদিকে, বজ্রপাতের শব্দে সেতারা বেগম (৫৫) নামে এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বাড়ির পাশের মাঠে গরু চরাতে নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তিনি ওই গ্রামের মো. বাদশা মিয়ার স্ত্রী।
একই দিন দুপুর ১টার দিকে ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান মো. জহির। তিনি ইউনুস মিস্ত্রীর ছেলে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য ও ঢেউটিন প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন,
“বজ্রপাতে গবাদিপশু হারানো কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কলাপাড়ার কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও হতাশার ছায়া। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে বিনিয়োগ করা কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়।