বেনাপোল প্রতিনিধি
দেশের প্রধান ও সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের দীর্ঘদিনের ইকুইপমেন্ট সংকট দূর হতে চলেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বন্দরে অত্যাধুনিক ও নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে পণ্য খালাস ও লোডিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক **শামীম হোসেন**। তিনি বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
পরিচালক শামীম হোসেন বলেন:
“বর্তমানে কিছু পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে পণ্য ওঠানামা ও কাস্টমস কার্যক্রমে মাঝেমধ্যে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো উপলব্ধি করছি। ইতোমধ্যে নতুন ইকুইপমেন্ট সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বন্দরে যুক্ত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আধুনিকায়নের ফলে যে সুবিধাগুলো নিশ্চিত হবে:
ফোর্কলিফট বা ক্রেনজনিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পণ্য খালাসে যে বিলম্ব হতো, তা আর থাকবে না।
নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সময় সাশ্রয় হবে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সময় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমে আসবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বন্দর কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন:
পণ্য খালাসের সময় কমলে ব্যবসায়িক খরচ (Cost of doing business) হ্রাস পাবে।
দ্রুত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পরিচালক শামীম হোসেন স্পষ্টভাবে জানান, বেনাপোলকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল বন্দর হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি যেন বাণিজ্যে বাধা হতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের এই আধুনিকায়ন কেবল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি মাইলফলক। নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে ইকুইপমেন্টগুলো চালু হলে বন্দরের সামগ্রিক শৃঙ্খলা এবং সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।




















