১২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ফেসবুকে ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রির নামে প্রতারণা, নড়াইলে চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার**

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২

ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে স্বল্প মূল্যে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আকাশ শেখ (২০), ফারুক মোল্যা ওরফে অনিক (২২), পাইকড়া গ্রামের লিমন শেখ (২১) এবং লিমন মোল্যা (২২)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’, ‘ফিশ ভ্যালি’, ‘ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর’ ও ‘অনলাইন পণ্য বিক্রয়’ নামে একাধিক ভুয়া পেজ পরিচালনা করে আসছিল। এসব পেজে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও কম মূল্যের লোভনীয় অফার দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের টার্গেট করা হতো।
ক্রেতারা ইলিশ মাছ অর্ডার করলে তাদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর আর কোনো মাছ সরবরাহ করা হতো না। পরে ক্রেতারা যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারকরা ফোন বন্ধ করে দিত বা সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলত।
সম্প্রতি প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল মামুন শিকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ মো. আব্দুল খালেকের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং ৩টি বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম/ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইনে মাছ বিক্রির আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নড়াইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অচেনা বা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ফেসবুক পেজে অগ্রিম অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

২৭ এপ্রিল যশোর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

ফেসবুকে ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রির নামে প্রতারণা, নড়াইলে চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার**

আপডেট: ০৯:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে স্বল্প মূল্যে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আকাশ শেখ (২০), ফারুক মোল্যা ওরফে অনিক (২২), পাইকড়া গ্রামের লিমন শেখ (২১) এবং লিমন মোল্যা (২২)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’, ‘ফিশ ভ্যালি’, ‘ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর’ ও ‘অনলাইন পণ্য বিক্রয়’ নামে একাধিক ভুয়া পেজ পরিচালনা করে আসছিল। এসব পেজে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও কম মূল্যের লোভনীয় অফার দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের টার্গেট করা হতো।
ক্রেতারা ইলিশ মাছ অর্ডার করলে তাদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর আর কোনো মাছ সরবরাহ করা হতো না। পরে ক্রেতারা যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারকরা ফোন বন্ধ করে দিত বা সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলত।
সম্প্রতি প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল মামুন শিকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ মো. আব্দুল খালেকের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং ৩টি বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম/ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইনে মাছ বিক্রির আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নড়াইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অচেনা বা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ফেসবুক পেজে অগ্রিম অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।