১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র: তদন্তের নির্দেশ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড নড়েচড়ে বসেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী **মোস্তফা আনজুম আবির** যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় তাকে আলাদা একটি কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী:
প্রথমে তাকে **২০২৬ সালের রচনামূলক (তত্ত্বীয়)** প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
* পরবর্তীতে তাকে নিয়মিত সিলেবাসের পরিবর্তে **২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের** জন্য প্রণীত নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।

ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্ন হওয়ায় আবির যথাযথভাবে উত্তর দিতে পারেনি। বিষয়টি পরীক্ষা শেষে রাতে অভিভাবকদের নজরে আসলে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার সকালে অভিভাবকরা জিলা স্কুল এবং পরে কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে দেখা করেন। কেন্দ্র সচিব নুরুল ইসলাম এ বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন:
> “যেহেতু বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়, তাই দ্বিতীয় পত্রে ভালো করলে উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব।”
তার এই বক্তব্যকে উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা অত্যন্ত ‘দায়িত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা না করে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

| **শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান** | প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। |
জেলা শিক্ষা অফিসের একটি তদন্ত দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল (যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়) পরিদর্শন করেছে। |
|| তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। |

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে তার সন্তানের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের সুষ্ঠু বিচার এবং আবিরের উত্তরপত্রটি বিশেষ বিবেচনায় মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতির কারণেই এমনটি ঘটেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণে কী ব্যবস্থা নেয়।

সর্বাধিক পঠিত

আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা

যশোরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র: তদন্তের নির্দেশ

আপডেট: ০৮:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড নড়েচড়ে বসেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী **মোস্তফা আনজুম আবির** যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় তাকে আলাদা একটি কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী:
প্রথমে তাকে **২০২৬ সালের রচনামূলক (তত্ত্বীয়)** প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
* পরবর্তীতে তাকে নিয়মিত সিলেবাসের পরিবর্তে **২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের** জন্য প্রণীত নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।

ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্ন হওয়ায় আবির যথাযথভাবে উত্তর দিতে পারেনি। বিষয়টি পরীক্ষা শেষে রাতে অভিভাবকদের নজরে আসলে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার সকালে অভিভাবকরা জিলা স্কুল এবং পরে কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে দেখা করেন। কেন্দ্র সচিব নুরুল ইসলাম এ বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন:
> “যেহেতু বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়, তাই দ্বিতীয় পত্রে ভালো করলে উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব।”
তার এই বক্তব্যকে উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা অত্যন্ত ‘দায়িত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা না করে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

| **শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান** | প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। |
জেলা শিক্ষা অফিসের একটি তদন্ত দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল (যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়) পরিদর্শন করেছে। |
|| তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। |

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে তার সন্তানের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের সুষ্ঠু বিচার এবং আবিরের উত্তরপত্রটি বিশেষ বিবেচনায় মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতির কারণেই এমনটি ঘটেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণে কী ব্যবস্থা নেয়।