ইসলামি শরিয়তে জুমার দিন শুধু সপ্তাহের একটি দিন নয়, বরং এটি ‘ইয়াউমুল ঈদ’ বা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ মর্যাদা ও আমলের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসাথে পবিত্র রমজান মাসে নিজেকে হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
১. জুমার দিনের অপরিসীম মর্যাদা ও আমল
পবিত্র কোরআনের সুরা জুমায় আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, জুমার আজান হওয়া মাত্রই যেন মুমিনরা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হয়। হাদিসের আলোকে এই দিনের বিশেষ কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
* পাঁচটি ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য: রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মতে, এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং এই দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
* গুনাহ মাফ ও সওয়াব: জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে সুগন্ধি মেখে আগেভাগে মসজিদে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এমনকি মসজিদে যাওয়ার প্রতি কদমে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সওয়াব পাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।
* দোয়া কবুলের মাহেন্দ্রক্ষণ: জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে যখন দোয়া করলে আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না। জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এই সময়টি হলো আছরের শেষ সময়।
* সুরা কাহাফ ও দরুদ পাঠ: জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়টি নূর বা আলোয় উদ্ভাসিত থাকে। পাশাপাশি এই দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. রমজানে আত্মশুদ্ধি ও নির্মল অন্তরের গুরুত্ব
পবিত্র রমজান মাস শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং এটি অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে পবিত্র করার মাস। সাহাবায়ে কেরামদের জীবনে দেখা যায়, তারা কারো প্রতি সামান্যতম ক্ষোভ রেখে রমজানের চাঁদ বরণ করতে সাহস পেতেন না।
বিদ্বেষমুক্ত হৃদয়ের আবশ্যকতা: হাদিসে এসেছে, মহান আল্লাহ শাবান বা রমজানের রাতে অনেককে ক্ষমা করেন, কিন্তু মুশরিক ও অন্তরে বিদ্বেষপোষণকারীদের ক্ষমা করেন না। তাই আল্লাহর রহমত পেতে হলে আগে অন্তর পরিষ্কার করতে হবে।
* ভ্রাতৃত্বের বন্ধন: রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন যেন আমরা একে অপরের সুপ্ত দোষ না খুঁজি এবং একে অপরকে ঘৃণা না করি। বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
* আপস-মীমাংসার সওয়াব: ইসলামে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দেওয়াকে নফল নামাজ, রোজা বা সদকার চেয়েও বেশি ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। কারণ পারস্পরিক ঝগড়া দ্বীন ও শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়।
উপসংহার
জুমার বরকত এবং রমজানের আত্মশুদ্ধি—উভয়ই মুমিনের আধ্যাত্মিক উন্নতির সোপান। জুমার দিনের আমলগুলো পালনের মাধ্যমে যেমন গুনাহ মাফ হয়, তেমনি রমজানে অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রকৃত সান্নিধ্য লাভ সম্ভব হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থেকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।?
১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম:
জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত ও রমজানে আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব: মুমিনের পাথেয়
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ১২:৫২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
- ৫৩৮
সর্বাধিক পঠিত





















