যশোরে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা জজসহ দুই বিচারকের আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে তিনটি আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত বিচারপ্রার্থী।
আইনজীবী সমিতির দাবি, ওই দুই বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিঘ্নিত বিচারিক কার্যক্রমের চিত্র
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনটি আদালতে মোট ১৯৬টি মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় অধিকাংশ মামলার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
|
| ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ (আইরিন পারভীন) | ৬৭টি | ৬৫টির তারিখ পরিবর্তন; ২টিতে স্বজনদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর। |
| অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ (আইরিন পারভীন) | ১৯টি | ১০টির তারিখ পরিবর্তন; ৯টিতে বাদী-বিবাদী নিজেদের বক্তব্য দেন। |
| যুগ্ম জেলা জজ (রাশেদুর রহমান) | ১১১টি | ৪১টির তারিখ পরিবর্তন; ৭০টিতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালিত। |
আইনজীবী না থাকায় কাঙ্ক্ষিত আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক বিচারপ্রার্থীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে দেখা গেছে।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিচারক আর আইনজীবীদের দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ মানুষ কেন বলির পাঁঠা হবো? আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, খরচ বাড়ছে। এই ভোগান্তি আর কতদিন চলবে?”
আইনজীবী সমিতির অবস্থান
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা ওই দুই বিচারকের অপসারণ চান। তিনি বলেন:
> “সমিতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। আমরা চাই না ওই দুই বিচারক যশোরে দায়িত্ব পালন করুন। বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। দ্রুত তাদের অপসারণ না করলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।”
আদালত বর্জন চললেও বিচারকরা এজলাসে উপস্থিত থেকে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়েছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সংকট নিরসনে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি, ফলে আগামী দিনগুলোতেও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।





















