যশোর যশোর সদরের চুরমনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা পালপাড়ায় গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্তের হামলায় মাটির তৈরি আসবাবপত্র ও সামগ্রী ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগডাঙ্গা পালপাড়ার প্রায় ৫০টি পরিবার দীর্ঘকাল ধরে মাটির রিং, স্ল্যাব ও চাড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সোমবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে হামলা চালিয়ে জীবন পাল, সঞ্জয় পাল, কৃষ্ণ পাল ও কানাই পালের বাড়ির আঙিনায় রাখা মালামাল গুঁড়িয়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই হামলায় তাদের প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা ক্ষুদ্র এই পরিবারগুলোর জন্য বড় আঘাত।
পালপাড়া মন্দিরের সভাপতি জয়দেব কুমার পাল জানান, প্রাথমিকভাবে এটি কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সহিংসতা বলে মনে হচ্ছে না। তিনি ধারণা করছেন, মালামাল কেনাবেচা নিয়ে গড়ে ওঠা কোনো ব্যবসায়ী ‘সিন্ডিকেট’ আধিপত্য বিস্তারে এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে গ্রামের অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, এলাকায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত আলম ও তার সহযোগীরা এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে।
খবর পেয়ে চুরমনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, “আমরা ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি। আমাদের ধারণা এটি ব্যবসা সংক্রান্ত সিন্ডিকেট বা অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দলের জেরে হয়ে থাকতে পারে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ জানান, খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দোষী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” পুলিশ প্রশাসন স্থানীয়দের শান্ত থাকার এবং আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।





















