০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৯

ঢাকা বাঙালি জাতির অহংকার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

জাতির এই কৃতী সন্তানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
: আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর ‘রাওয়া’ হেলমেট হলে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
: সিলেটে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
সামরিক জীবন ও অনন্য রেকর্ড
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবীর ওসমানী। তার সামরিক জীবন ছিল বৈচিত্র্যময় ও সাফল্যের নজির:
: ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
* দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: ১৯৪৩-৪৫ সালে মিয়ানমার (বার্মা) রণাঙ্গনে এক বিশাল যান্ত্রিক বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দেন।
* পাকিস্তান সেনাবাহিনী: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী সিয়াটো ও সেন্টো-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় পাকিস্তান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬৭ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রণকৌশলেই দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। দেশ স্বাধীনের পর তিনি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় নৌ-চলাচল, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বাধিক পঠিত

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবার হামে শিশুমৃত্যু

বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট: ১১:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বাঙালি জাতির অহংকার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

জাতির এই কৃতী সন্তানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
: আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর ‘রাওয়া’ হেলমেট হলে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
: সিলেটে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
সামরিক জীবন ও অনন্য রেকর্ড
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবীর ওসমানী। তার সামরিক জীবন ছিল বৈচিত্র্যময় ও সাফল্যের নজির:
: ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
* দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: ১৯৪৩-৪৫ সালে মিয়ানমার (বার্মা) রণাঙ্গনে এক বিশাল যান্ত্রিক বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দেন।
* পাকিস্তান সেনাবাহিনী: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী সিয়াটো ও সেন্টো-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় পাকিস্তান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬৭ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রণকৌশলেই দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। দেশ স্বাধীনের পর তিনি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় নৌ-চলাচল, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।