যশোরে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যারা নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ‘অসৎ প্রস্তাব’ দিচ্ছে, তারা কীভাবে দেশে ‘সৎ লোকের শাসন’ কায়েম করবে?
সোমবার দুপুরে যশোর উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীদের মর্যাদা ও অধিকার: তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ দল মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ঘরে বন্দি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা নারীদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে এবং পরে আইডি হ্যাকের অজুহাত দেয়, তাদের আসল চরিত্র জনগণের কাছে পরিষ্কার।”
ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি: নারীদের ক্ষমতায়নে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি ঘোষণা দেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। নির্বাচন নিয়ে হুঁশিয়ারি: বিগত দিনের ‘নিশিরাতের ভোট’ বা ‘আমি-ড্যামি’ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি রোধে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভোট গণনায় কোনো কারচুপির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার নির্দেশ দেন।
আঞ্চলিক উন্নয়ন ও কৃষি: যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনি কলগুলো পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত উলাসী খাল ও জিকে প্রকল্প পুনরায় সচল করার কথা বলেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সম্মানী: তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশ গড়বে। এছাড়া মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিম এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার দলের।
এদিন সকাল থেকেই যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাতটি জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে জড়ো হন। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যেই পুরো ক্রীড়া উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।





















