০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরে সাবেক এসপি আনিসুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আমলে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫২

২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছায় দুই ছাত্রনেতাকে আটকের পর তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে গুলি করে পা পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন।

ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা তিনজনকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট ছাত্রশিবিরের দুই নেতা রুহুল আমিন ও ইসরাফিলকে ডিবি পুলিশ আটক করে।
আটকের পর তাদের টানা দুই রাত অমানবিক নির্যাতন করা হয়।
*
তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা তাদের পায়ে গুলি করেন।
* নিষ্ঠুরতার চরম সীমা: গুলির ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং পরে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
* পরবর্তীতে চিকিৎসার অভাবে ক্ষতস্থানে পচন ধরায় দুই ভুক্তভোগীরই পা কেটে ফেলতে হয়।

এই মামলায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে তিনজন বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন:
১. এসআই আকিকুল ইসলাম (তৎকালীন চৌগাছা থানা)
২. কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান
৩. কনস্টেবল জহরুল হক
পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন:
আনিসুর রহমান (তৎকালীন এসপি, যশোর)
মশিউর রহমান (তৎকালীন ওসি, চৌগাছা থানা)
* এসআই মোখলেছ
* এসআই জামাল
* এসআই মাজেদুল
তদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে সাজানো সেই অস্ত্র মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। এই অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এখন তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

যশোরে সাবেক এসপি আনিসুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আমলে

আপডেট: ০৯:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছায় দুই ছাত্রনেতাকে আটকের পর তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে গুলি করে পা পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন।

ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা তিনজনকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট ছাত্রশিবিরের দুই নেতা রুহুল আমিন ও ইসরাফিলকে ডিবি পুলিশ আটক করে।
আটকের পর তাদের টানা দুই রাত অমানবিক নির্যাতন করা হয়।
*
তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা তাদের পায়ে গুলি করেন।
* নিষ্ঠুরতার চরম সীমা: গুলির ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং পরে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
* পরবর্তীতে চিকিৎসার অভাবে ক্ষতস্থানে পচন ধরায় দুই ভুক্তভোগীরই পা কেটে ফেলতে হয়।

এই মামলায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে তিনজন বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন:
১. এসআই আকিকুল ইসলাম (তৎকালীন চৌগাছা থানা)
২. কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান
৩. কনস্টেবল জহরুল হক
পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন:
আনিসুর রহমান (তৎকালীন এসপি, যশোর)
মশিউর রহমান (তৎকালীন ওসি, চৌগাছা থানা)
* এসআই মোখলেছ
* এসআই জামাল
* এসআই মাজেদুল
তদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে সাজানো সেই অস্ত্র মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। এই অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এখন তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।