যশোরের ঝিকরগাছায় ইজিবাইক চালক শামীম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শামীমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
১. ইব্রাহিম: ঝিকরগাছার শ্রীরামপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে (গ্যারেজ মালিক)।
২. মামুন: যশোর সদরের চান্দুটিয়া গ্রামের জুয়েলের ছেলে (ইব্রাহিমের দোকানের কর্মচারী)।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম জানান, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শনিবার সকালে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ইব্রাহিম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শামীম তার দোকানেই বসে ছিলেন। সেখানে ইব্রাহিম ও শামীম একত্রে ইয়াবা সেবন করেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমকে নিয়ে তারা আঙ্গারপাড়া গ্রামের একটি নির্জন ক্ষেতের পাশে যান। সেখানে ইব্রাহিম ও মামুন মিলে সাইকেলের ব্রেকের তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে শামীমকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, মূলত শামীমের অটোভ্যান ও ব্যাটারির লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। গ্রেফতারের পর ইব্রাহিমের বাড়ি থেকেই রক্তমাখা সেই ইজিবাইক ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শামীম তার ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। শুক্রবার সকালে আঙ্গারপাড়া গ্রামের একটি মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই নিহতের পরিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।





















