০৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে আদালত চত্বরে আসামিদের ‘অপহরণ চেষ্টা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬৮

যশোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে একটি মামলার আসামিদের হাজিরা দিতে আসার সময় তাদের অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে। এ সময় বহিরাগতদের নিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর দায়ে মামলার বাদী শ্রমিক নেতা রবিউল ইসলাম মিন্টু গাজীকে দেড় ঘণ্টা কাঠগড়ায় আটকে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ আদালতের দ্বিতীয় তলায় ৮-১০ জন বহিরাগত ব্যক্তি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। শ্রমিক নেতা মিন্টু গাজীর নেতৃত্বে তারা “এরা স্বৈরাচারের দোসর, ধরে ফেলো” বলে স্লোগান দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে মব তৈরির চেষ্টা করেন। এতে পুরো আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনজীবীরা একত্রিত হয়ে তাৎক্ষণিক বিচারককে বিষয়টি অবগত করেন।

ঘটনা শোনার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম মামলার বাদী মিন্টু গাজীকে দ্রুত পুলিশ পাহারায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড করবেন না মর্মে মুচলেকা দিলে আদালত তাকে মুক্তি দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মিন্টু গাজী সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা উপজেলার ইয়াকুব ফকিরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ৪০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম (৩) জানান:
“এই মামলায় ছয়জন আসামি আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মিন্টু গাজী ও তার সহযোগীরা আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা ও আসামিদের অপহরণের চেষ্টা করেন। আদালত শুনানি শেষে ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনকে জামিন দিয়েছেন এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

আদালতের পবিত্রতা রক্ষায় আইনজীবীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতর বহিরাগতদের নিয়ে এসে মব জাস্টিসের চেষ্টা বিচার ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

মাগুরায় বসে যশোরে মাদকের জাল: নেপথ্যে রহস্যময়ী জেরিন

যশোরে আদালত চত্বরে আসামিদের ‘অপহরণ চেষ্টা

আপডেট: ০৫:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে একটি মামলার আসামিদের হাজিরা দিতে আসার সময় তাদের অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে। এ সময় বহিরাগতদের নিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর দায়ে মামলার বাদী শ্রমিক নেতা রবিউল ইসলাম মিন্টু গাজীকে দেড় ঘণ্টা কাঠগড়ায় আটকে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ আদালতের দ্বিতীয় তলায় ৮-১০ জন বহিরাগত ব্যক্তি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। শ্রমিক নেতা মিন্টু গাজীর নেতৃত্বে তারা “এরা স্বৈরাচারের দোসর, ধরে ফেলো” বলে স্লোগান দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে মব তৈরির চেষ্টা করেন। এতে পুরো আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনজীবীরা একত্রিত হয়ে তাৎক্ষণিক বিচারককে বিষয়টি অবগত করেন।

ঘটনা শোনার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম মামলার বাদী মিন্টু গাজীকে দ্রুত পুলিশ পাহারায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড করবেন না মর্মে মুচলেকা দিলে আদালত তাকে মুক্তি দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মিন্টু গাজী সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা উপজেলার ইয়াকুব ফকিরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ৪০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম (৩) জানান:
“এই মামলায় ছয়জন আসামি আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মিন্টু গাজী ও তার সহযোগীরা আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা ও আসামিদের অপহরণের চেষ্টা করেন। আদালত শুনানি শেষে ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনকে জামিন দিয়েছেন এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

আদালতের পবিত্রতা রক্ষায় আইনজীবীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতর বহিরাগতদের নিয়ে এসে মব জাস্টিসের চেষ্টা বিচার ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।