চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এক কসাইকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে ড্রেন ও খালে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত মো. আনিস চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বায়েজিদ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় কুকুরের মুখে পলিথিনে মোড়ানো দুটি মানুষের হাত দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পলিথিন মোড়ানো আরও কিছু দেহাংশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে হাতের আঙুলের ছাপ (ফিংগারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
গত বুধবার বিকেলে অভিযুক্ত নারী আনিসকে তার শহীদনগরের বাসায় ডেকে আনেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে আনিসের মাথায় মসলা বাটার নোড়া (শিল) দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর অভিযুক্ত নারীর ভাই ও আরও এক সহযোগীর সহায়তায় চাপাতি দিয়ে আনিসের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে মরদেহ ছয়টি টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে স্থানীয় খাল ও ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
ল
নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নারী, তার ভাই ও এক স্বজনকে গ্রেফতার করেছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, গ্রেফতারকৃত নারী দাবি করেছেন— কিছু আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে আনিস তাকে জিম্মি করেছিলেন এবং প্রতারণা করছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড।
তবে নিহতের স্বজনেরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওই নারীর কাছে আনিস ২ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা চাওয়ার জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বায়েজিদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আজ শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাওনা টাকা নাকি ব্যক্তিগত ছবি— কোন কারণে এই হত্যাকাণ্ড, তা অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।





















