০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ, ডিডি ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১০

অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার সেবার দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে লাইসেন্স প্রদান, ফায়ার রিপোর্ট, সরকারি কেনাকাটা, জ্বালানি ও বিভিন্ন বিল পরিশোধ, বদলি-পদায়ন এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত অর্থ লেনদেনের হিসাব সরাসরি টাকার অঙ্কে না লিখে সাংকেতিক কোডে একটি ডায়েরিতে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ডিডির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে পরিচিত জাকিরের কাছে থাকা একটি ডায়েরিতে কথিত অর্থ লেনদেনের হিসাব রাখা হয়। সেখানে ব্যবহৃত প্রতিটি কোডের মূল্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দিন শেষে এসব কোডের হিসাব মিলিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় ছালেহ উদ্দিনের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। তবে কথিত ডায়েরি বা অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ছালেহ উদ্দিনের পদোন্নতি নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক বা সমমানের পদে পদোন্নতির আগে তাঁর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন ছিল এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া পদোন্নতির পর ঢাকা বিভাগে উপপরিচালক হিসেবে পদায়ন পেতে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আনিসের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইকৃত নথি পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগের অন্যতম প্রধান বিষয় ফায়ার লাইসেন্স প্রদান ও ফায়ার রিপোর্ট প্রস্তুতসংক্রান্ত কার্যক্রম।

অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি ১০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর সংযোজনের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ফায়ার রিপোর্টের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, প্রত্যাশিত অর্থ না পেলে সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রাখা হয় এবং রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করা হয়। একজন অভিযোগকারীর দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করা হয়। তবে এই অঙ্কের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছালেহ উদ্দিনের দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, স্টেশনারি ও গাড়ির পাম্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় যথাযথভাবে না দেখিয়ে এসব ব্যয় আসবাবপত্র কেনার খাতে দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ক্রয়াদেশ, বিল-ভাউচার ও আর্থিক নথি যাচাই ছাড়া এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ঢাকা বিভাগের কয়েকটি ফায়ার স্টেশনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গাড়ির নিবন্ধন ও খাবারের বিল নিয়ে জটিলতা তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের জ্বালানি সরবরাহে সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বকেয়া বা সংশ্লিষ্ট সমস্যার কারণে ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অধীনস্থ সিনিয়র স্টেশন অফিসার ও ডিএডিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ না পেলে ছুটি আটকে দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সিনিয়র স্টেশন অফিসারদের সাপ্তাহিক ছুটি নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও বদলি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সহকারী পরিচালক আনিসের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ফায়ার সার্ভিসের মতো জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবিগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

সর্বাধিক পঠিত

মহাষ্টমীতে পেঁচোর বাওর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন নুরুজ্জামান লিটনের, সম্প্রীতি রক্ষার আশ্বাস

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ, ডিডি ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

আপডেট: ১০:৫৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার সেবার দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে লাইসেন্স প্রদান, ফায়ার রিপোর্ট, সরকারি কেনাকাটা, জ্বালানি ও বিভিন্ন বিল পরিশোধ, বদলি-পদায়ন এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত অর্থ লেনদেনের হিসাব সরাসরি টাকার অঙ্কে না লিখে সাংকেতিক কোডে একটি ডায়েরিতে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ডিডির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে পরিচিত জাকিরের কাছে থাকা একটি ডায়েরিতে কথিত অর্থ লেনদেনের হিসাব রাখা হয়। সেখানে ব্যবহৃত প্রতিটি কোডের মূল্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দিন শেষে এসব কোডের হিসাব মিলিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় ছালেহ উদ্দিনের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। তবে কথিত ডায়েরি বা অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ছালেহ উদ্দিনের পদোন্নতি নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক বা সমমানের পদে পদোন্নতির আগে তাঁর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন ছিল এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া পদোন্নতির পর ঢাকা বিভাগে উপপরিচালক হিসেবে পদায়ন পেতে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আনিসের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইকৃত নথি পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগের অন্যতম প্রধান বিষয় ফায়ার লাইসেন্স প্রদান ও ফায়ার রিপোর্ট প্রস্তুতসংক্রান্ত কার্যক্রম।

অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি ১০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর সংযোজনের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ফায়ার রিপোর্টের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, প্রত্যাশিত অর্থ না পেলে সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রাখা হয় এবং রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করা হয়। একজন অভিযোগকারীর দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করা হয়। তবে এই অঙ্কের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছালেহ উদ্দিনের দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, স্টেশনারি ও গাড়ির পাম্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় যথাযথভাবে না দেখিয়ে এসব ব্যয় আসবাবপত্র কেনার খাতে দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ক্রয়াদেশ, বিল-ভাউচার ও আর্থিক নথি যাচাই ছাড়া এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ঢাকা বিভাগের কয়েকটি ফায়ার স্টেশনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গাড়ির নিবন্ধন ও খাবারের বিল নিয়ে জটিলতা তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের জ্বালানি সরবরাহে সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বকেয়া বা সংশ্লিষ্ট সমস্যার কারণে ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অধীনস্থ সিনিয়র স্টেশন অফিসার ও ডিএডিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ না পেলে ছুটি আটকে দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সিনিয়র স্টেশন অফিসারদের সাপ্তাহিক ছুটি নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও বদলি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সহকারী পরিচালক আনিসের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ফায়ার সার্ভিসের মতো জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবিগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।