০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, অনুপ্রেরণাদায়ী তিন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে। দেশ গঠনে এমন মানুষের আরও বেশি প্রয়োজন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি।

সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন—বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

শিক্ষকতায় অনন্য দৃষ্টান্ত নায়লা শারাফ

নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করছেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফের

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলতাফ।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, আলতাফের কথা শুনে তার বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণে বাবুলের অবদান

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তার লাগানো অধিকাংশ গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তিনজনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে তাদের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এসব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, অনুপ্রেরণাদায়ী তিন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী

দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, অনুপ্রেরণাদায়ী তিন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ০৬:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে। দেশ গঠনে এমন মানুষের আরও বেশি প্রয়োজন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি।

সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন—বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

শিক্ষকতায় অনন্য দৃষ্টান্ত নায়লা শারাফ

নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করছেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফের

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলতাফ।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, আলতাফের কথা শুনে তার বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণে বাবুলের অবদান

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তার লাগানো অধিকাংশ গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তিনজনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে তাদের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এসব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।