০২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রেলওয়েতে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনে পাঁচ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সুবিধা গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটিতে নাম উল্লেখ করা কর্মকর্তারা হলেন তাবাসসুম বিনতে ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম, সলিমুল্লাহ বাহার, আবু জাফর মিয়া ও তাপস কুমার দাস। তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক) তাবাসসুম বিনতে ইসলামের বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি এবং দরপত্রসংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ প্রয়োজন।

রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং একাধিক দায়িত্বের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে প্রতিবেদনটি। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দাপ্তরিক নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা সলিমুল্লাহ বাহারের বিরুদ্ধে রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, ভেরিয়েশন অর্ডার এবং সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গাড়িচালক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রকল্পের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনটিতে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আবু জাফর মিয়ার বিরুদ্ধে দরপত্রের প্রাক্কলনসংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে প্রকাশ এবং গেটকিপার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গুরুতর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব), চট্টগ্রাম হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত তাপস কুমার দাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে রেলওয়ের উন্নয়ন খাতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব, দরপত্রের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে দুর্নীতির জন্য দায়ী করা যায় না।

রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা, অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ করা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী গ্রেপ্তার

রেলওয়েতে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ,

আপডেট: ১১:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনে পাঁচ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সুবিধা গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটিতে নাম উল্লেখ করা কর্মকর্তারা হলেন তাবাসসুম বিনতে ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম, সলিমুল্লাহ বাহার, আবু জাফর মিয়া ও তাপস কুমার দাস। তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক) তাবাসসুম বিনতে ইসলামের বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি এবং দরপত্রসংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ প্রয়োজন।

রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং একাধিক দায়িত্বের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে প্রতিবেদনটি। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দাপ্তরিক নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা সলিমুল্লাহ বাহারের বিরুদ্ধে রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, ভেরিয়েশন অর্ডার এবং সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গাড়িচালক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রকল্পের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনটিতে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আবু জাফর মিয়ার বিরুদ্ধে দরপত্রের প্রাক্কলনসংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে প্রকাশ এবং গেটকিপার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গুরুতর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব), চট্টগ্রাম হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত তাপস কুমার দাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে রেলওয়ের উন্নয়ন খাতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব, দরপত্রের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে দুর্নীতির জন্য দায়ী করা যায় না।

রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা, অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ করা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।