বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীন। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ (Shared Future Community) পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীতে চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানতে চান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশে চীনের তৈরি জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিনিধিদলের সফরের খবর কতটা সত্য।
জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, দুই দেশের যৌথ ইশতেহারে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের সফর, নিয়মিত মতবিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অবশ্যই আমাদের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নির্দিষ্ট কোনো ক্রয় প্রকল্প নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারছি না। বিষয়টি অনুগ্রহ করে বুঝবেন।”
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক যেহেতু ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়ের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে, তাই প্রতিরক্ষাসহ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও আগামী দিনে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যৌথ ইশতেহারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার উল্লেখের ব্যাখ্যাও জানতে চান। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে—যৌথ ইশতেহারে মূলত সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করেন। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একাধিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়।



















