জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬। মঙ্গলবার যশোরে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর তেজগাঁও ভূমি ভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেলার উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। একই সময়ে যশোর টাউনহল মাঠ-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে ভূমি সেবা পেতে আর হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হতে হবে না। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে জমিজমা সংক্রান্ত নানা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
তিনি বলেন, “প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে। অনলাইনে খাজনা প্রদান, নামজারি, আবেদনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এখন সহজ হয়েছে। যারা অনলাইনে সেবা নিতে সক্ষম নন, তাদের জন্য ভূমি সহায়তা সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলায় ৮৯৩টি ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত ফি’র বিনিময়ে সহজে ভূমি সেবা নিতে পারছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের সেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, “ভূমি ব্যবস্থাপনাকে যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করা যাবে, ততই জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে।”
এ সময় তিনি ‘ভূমি’ নামের মোবাইল অ্যাপের কথাও উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যশোর টাউনহল মাঠ-এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশেক হাসান, সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসন, যশোর আয়োজিত এ মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া।




















