০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের বড় সিদ্ধান্ত ধর্মভিত্তিক সব সরকারি ভাতা বন্ধ, বাতিল হচ্ছে ওবিসি তালিকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৫১২

পশ্চিমবঙ্গ-এ সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একাধিক বড় ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী-এর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো— ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া সব ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা বা ভাতা আগামী জুন মাস থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের বিদ্যমান ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) তালিকা বাতিল করা।

ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, নতুন করে ওবিসি কোটার যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করা হবে। সেই প্যানেলই ভবিষ্যতে কারা সংরক্ষণের আওতায় আসবে, তা নির্ধারণ করবে।

সরকার জানিয়েছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে ধর্মীয় ক্যাটাগরিতে চালু থাকা সব প্রকল্প চলতি মে মাসের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে আগামী জুন থেকে এসব ভাতা ও সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই পৃথক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কল্যাণমূলক প্রকল্প বা জনহিতকর কর্মসূচি কোনোভাবেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। নতুন এই সিদ্ধান্তকে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা ব্যানার্জি-র নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার রাজ্যের ইমামদের জন্য মাসিক ২ হাজার ৫০০ রুপি ভাতার ঘোষণা দেয়। পরে সেই সুবিধা মসজিদের মুয়াজ্জিনদের জন্যও সম্প্রসারিত করা হয়। তবে শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ২০২০ সালে সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের জন্যও মাসিক ভাতা চালু করা হয়। প্রথমে ভাতার পরিমাণ ছিল ১ হাজার রুপি, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়িয়ে ২ হাজার রুপি করা হয়।

নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা সব ধরনের সরকারি ভাতা ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে ধর্মীয় ভাতা ও ওবিসি তালিকা বাতিলের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। বিদায়ী সরকারের আমলে তহবিল বণ্টনে হওয়া অনিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ দাস-এর তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে রাজ্যে নারীদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন নির্যাতন, সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনা তদন্তে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি-র নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইপিএস কর্মকর্তা দময়ন্তী সেন। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, নতুন সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ একে প্রশাসনিক সংস্কারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন।

সর্বাধিক পঠিত

কেশবপুরে মউশিক কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের বড় সিদ্ধান্ত ধর্মভিত্তিক সব সরকারি ভাতা বন্ধ, বাতিল হচ্ছে ওবিসি তালিকা

আপডেট: ১০:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ-এ সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একাধিক বড় ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী-এর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো— ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া সব ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা বা ভাতা আগামী জুন মাস থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের বিদ্যমান ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) তালিকা বাতিল করা।

ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, নতুন করে ওবিসি কোটার যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করা হবে। সেই প্যানেলই ভবিষ্যতে কারা সংরক্ষণের আওতায় আসবে, তা নির্ধারণ করবে।

সরকার জানিয়েছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে ধর্মীয় ক্যাটাগরিতে চালু থাকা সব প্রকল্প চলতি মে মাসের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে আগামী জুন থেকে এসব ভাতা ও সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই পৃথক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কল্যাণমূলক প্রকল্প বা জনহিতকর কর্মসূচি কোনোভাবেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। নতুন এই সিদ্ধান্তকে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা ব্যানার্জি-র নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার রাজ্যের ইমামদের জন্য মাসিক ২ হাজার ৫০০ রুপি ভাতার ঘোষণা দেয়। পরে সেই সুবিধা মসজিদের মুয়াজ্জিনদের জন্যও সম্প্রসারিত করা হয়। তবে শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ২০২০ সালে সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের জন্যও মাসিক ভাতা চালু করা হয়। প্রথমে ভাতার পরিমাণ ছিল ১ হাজার রুপি, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়িয়ে ২ হাজার রুপি করা হয়।

নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা সব ধরনের সরকারি ভাতা ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে ধর্মীয় ভাতা ও ওবিসি তালিকা বাতিলের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। বিদায়ী সরকারের আমলে তহবিল বণ্টনে হওয়া অনিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ দাস-এর তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে রাজ্যে নারীদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন নির্যাতন, সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনা তদন্তে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি-র নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইপিএস কর্মকর্তা দময়ন্তী সেন। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, নতুন সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ একে প্রশাসনিক সংস্কারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন।