যশোরে বোরো মৌসুমের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের জন্য ‘শস্য বীমা’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই বীমার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে সরকারি খাদ্য গুদামে এই ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। যশোর জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ আরও অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন এবং প্রয়োজনে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ নিতে পারবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
কৃষি খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। তাঁর সেই ধারাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।” প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, ডিজেল ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা। প্রতিমন্ত্রী ধান ক্রয়ে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
**কৃষকদের প্রতিক্রিয়া:**
সরকারের সরাসরি ধান ক্রয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা জানান, সরাসরি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারায় তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে কার্যক্রমের সূচনা করেন এবং খাদ্য গুদাম চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।




















