০৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

যবিপ্রবিতে হলের লিফটে আটকা পড়লেন ১১ শিক্ষার্থী: ২০ মিনিট পর উদ্ধার,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫১৩

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক হল ‘মুন্সি মেহেরুল্লাহ’ হলের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১১ জন শিক্ষার্থী আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ২০ মিনিট রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আতঙ্ক ও গরমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, লিফটে করে নিচে নামার সময় হঠাৎ সেটি বিকল হয়ে মাঝপথে আটকে যায়। সে সময় লিফটের ভেতরে বিভিন্ন বিভাগের ১১ জন আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অক্সিজেনের অভাবে ও গরমে কয়েকজন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা লিফট অপারেটরকে ফোনে বিষয়টি জানালে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে যান্ত্রিক জটিলতার কারণে তাদের বের করে আনতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগে যায়।

ভুক্তভোগী নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, “আমরা প্রায় ২০ মিনিট ভেতরে আটকে ছিলাম। দ্রুত জানালেও উদ্ধারে দেরি হয়েছে। ভেতরে গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; এর আগেও একাধিকবার এমন হয়েছে কিন্তু প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এই অবহেলার দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।”

এ বিষয়ে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট আব্দুর রউফ সরকার বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা জানার সাথে সাথেই আমরা দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করেছি। লিফটের ওপর চাপ কমাতে আপাতত তিন তলা পর্যন্ত লিফট ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিফট অপারেটরদের সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গেও কথা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

লিফট সংক্রান্ত এই জটিলতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার শাফাওয়াত হোসেন জানান, লিফট পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি খুব সাধারণ বিষয়। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সবসময় সম্ভব নয়।

তবে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা লিফটগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার স্থায়ী গ্যারান্টি দাবি করেছেন।

লোহাগড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৪ দোকান পুড়ে ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি

যবিপ্রবিতে হলের লিফটে আটকা পড়লেন ১১ শিক্ষার্থী: ২০ মিনিট পর উদ্ধার,

আপডেট: ০৪:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক হল ‘মুন্সি মেহেরুল্লাহ’ হলের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১১ জন শিক্ষার্থী আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ২০ মিনিট রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আতঙ্ক ও গরমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, লিফটে করে নিচে নামার সময় হঠাৎ সেটি বিকল হয়ে মাঝপথে আটকে যায়। সে সময় লিফটের ভেতরে বিভিন্ন বিভাগের ১১ জন আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অক্সিজেনের অভাবে ও গরমে কয়েকজন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা লিফট অপারেটরকে ফোনে বিষয়টি জানালে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে যান্ত্রিক জটিলতার কারণে তাদের বের করে আনতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগে যায়।

ভুক্তভোগী নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, “আমরা প্রায় ২০ মিনিট ভেতরে আটকে ছিলাম। দ্রুত জানালেও উদ্ধারে দেরি হয়েছে। ভেতরে গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; এর আগেও একাধিকবার এমন হয়েছে কিন্তু প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এই অবহেলার দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।”

এ বিষয়ে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট আব্দুর রউফ সরকার বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা জানার সাথে সাথেই আমরা দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করেছি। লিফটের ওপর চাপ কমাতে আপাতত তিন তলা পর্যন্ত লিফট ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিফট অপারেটরদের সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গেও কথা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

লিফট সংক্রান্ত এই জটিলতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার শাফাওয়াত হোসেন জানান, লিফট পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি খুব সাধারণ বিষয়। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সবসময় সম্ভব নয়।

তবে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা লিফটগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার স্থায়ী গ্যারান্টি দাবি করেছেন।