০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

নড়াইলে ১০ বছরের প্রতীক্ষার পর জন্ম নেওয়া সাত নবজাতকের মৃত্যু: শোকের ছায়া

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫০৯

নড়াইলে দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সালমা বেগম নামে এক গৃহবধূ। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই একে একে চার ছেলে ও তিন মেয়েসহ সাত নবজাতকের সবারই মৃত্যু হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে তিনি প্রথমে দুটি এবং বুধবার রাতে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন। ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে সাতটি প্রাণের আগমনে পরিবারটিতে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক **ডা. ইলা মণ্ডল** জানান, সালমা বেগম তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে সন্তানগুলো জন্ম নেওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল মাত্র ২০০ গ্রামের মতো। সবার হার্টবিট থাকলেও অপরিপক্কতার কারণে শেষ পর্যন্ত কাউকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।”

কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যা ও সালমা বেগম দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। মহসিন মোল্যা দীর্ঘ সাত বছর প্রবাসে থাকার পর বর্তমানে দেশে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাঁচ বছর আগে একবার গর্ভপাতের কারণে তারা সন্তান হারিয়েছিলেন। এবার আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ছয় সন্তানের কথা জানা গেলেও বাস্তবে সাতটি সন্তান জন্ম নেয়।

নবজাতকদের দাদা **আব্দুল লতিফ মোল্লা** অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “১০ বছর পর নাতি-নাতনিদের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহ খুশি দিলেও তা আমরা ধরে রাখতে পারলাম না।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সাত নবজাতককে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে মা সালমা বেগম যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাত সন্তানের জন্মের খবর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও তাদের মৃত্যুর সংবাদে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

লোহাগড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৪ দোকান পুড়ে ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি

নড়াইলে ১০ বছরের প্রতীক্ষার পর জন্ম নেওয়া সাত নবজাতকের মৃত্যু: শোকের ছায়া

আপডেট: ১১:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নড়াইলে দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সালমা বেগম নামে এক গৃহবধূ। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই একে একে চার ছেলে ও তিন মেয়েসহ সাত নবজাতকের সবারই মৃত্যু হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে তিনি প্রথমে দুটি এবং বুধবার রাতে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন। ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে সাতটি প্রাণের আগমনে পরিবারটিতে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক **ডা. ইলা মণ্ডল** জানান, সালমা বেগম তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে সন্তানগুলো জন্ম নেওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল মাত্র ২০০ গ্রামের মতো। সবার হার্টবিট থাকলেও অপরিপক্কতার কারণে শেষ পর্যন্ত কাউকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।”

কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যা ও সালমা বেগম দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। মহসিন মোল্যা দীর্ঘ সাত বছর প্রবাসে থাকার পর বর্তমানে দেশে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাঁচ বছর আগে একবার গর্ভপাতের কারণে তারা সন্তান হারিয়েছিলেন। এবার আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ছয় সন্তানের কথা জানা গেলেও বাস্তবে সাতটি সন্তান জন্ম নেয়।

নবজাতকদের দাদা **আব্দুল লতিফ মোল্লা** অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “১০ বছর পর নাতি-নাতনিদের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহ খুশি দিলেও তা আমরা ধরে রাখতে পারলাম না।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সাত নবজাতককে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে মা সালমা বেগম যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাত সন্তানের জন্মের খবর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও তাদের মৃত্যুর সংবাদে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।