০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে রাতের মিছিল: যশোরে সাবেক মন্ত্রী-৫ সাবেক এমপিসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

যশোরে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগের ব্যানারে রাতের আঁধারে সরকারবিরোধী মিছিল করার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন।

মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ এবং যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী।
এছাড়াও মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, যুবলীগের সাবেক নেতা শহীদুজ্জামান বাবু (দাতাল বাবু), শেখ আতিকুর রহমান বাবু (জার্মান বাবু) এবং আরও বহু নেতাকর্মী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আজিজ সিটি রোডে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যুবলীগের ব্যানারে একত্রিত হন। সেখানে তারা মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলে ৮০ থেকে ১০০ জন অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রথম ১৩ জন আসামি নিষিদ্ধ সংগঠনের মূল অর্থদাতা ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি। বাকি ২৭ জন সক্রিয় সদস্য, যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, এসব নেতাকর্মী এখনও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার চেষ্টা করছেন। এ কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, যুবলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে রাতের মিছিল: যশোরে সাবেক মন্ত্রী-৫ সাবেক এমপিসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে রাতের মিছিল: যশোরে সাবেক মন্ত্রী-৫ সাবেক এমপিসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

আপডেট: ০৬:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগের ব্যানারে রাতের আঁধারে সরকারবিরোধী মিছিল করার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন।

মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ এবং যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী।
এছাড়াও মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, যুবলীগের সাবেক নেতা শহীদুজ্জামান বাবু (দাতাল বাবু), শেখ আতিকুর রহমান বাবু (জার্মান বাবু) এবং আরও বহু নেতাকর্মী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আজিজ সিটি রোডে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যুবলীগের ব্যানারে একত্রিত হন। সেখানে তারা মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলে ৮০ থেকে ১০০ জন অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রথম ১৩ জন আসামি নিষিদ্ধ সংগঠনের মূল অর্থদাতা ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি। বাকি ২৭ জন সক্রিয় সদস্য, যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, এসব নেতাকর্মী এখনও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার চেষ্টা করছেন। এ কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, যুবলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।