যশোরে ‘স্বাস্থ্য স্যানিটেশন ও আবাসন প্রকল্প’ (প্রণোদনা ব্র্যাক) নামক একটি ভুয়া প্রকল্পের আড়ালে কয়েক হাজার হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। যশোর জেলা কৃষি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই প্রতারণা চালিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে স্বপ্না সুলতানা এই অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও ২০-২২ জন ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, অভিযুক্ত শফিকুজ্জামান তার সহযোগী মুরাদ, নাজমা খাতুন ও নাজমা বেগমকে সাথে নিয়ে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তারা দরিদ্র পরিবারগুলোকে নিম্নলিখিত সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়: বিনামূল্যে ঘর ও বাথরুম নির্মাণ। টিউবওয়েল ও সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন। সেলাই মেশিন বিতরণ। স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, চক্রটি সুনির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিয়েছে:স্বপ্না সুলতানা: ১৬ লাখ টাকা।সালমা বেগম:১৫ লাখ টাকা।লিমা খাতুন:৭ লাখ টাকা।
বেবি, ইতি, ফাতেমা, সাফিয়া, সাধনা এবং লাবলীসহ অসংখ্য নারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক চেকও হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।
স্বপ্না সুলতানা জানান, স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নামে আরও ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন তো দূরে থাক, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের মারধর, ভয়ভীতি এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জমানো টাকা এবং ঋণের অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার। তারা এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ব্র্যাক (BRAC) একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থাটি সাধারণত কোনো প্রকল্পের জন্য অগ্রিম এভাবে বড় অংকের ব্যক্তিগত জামানত গ্রহণ করে না। এই ধরণের ভুয়া ‘প্রণোদনা’ বা ‘প্রকল্পে’র ফাঁদে পা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান কার্যালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করার জন্য সচেতন থাকা জরুরি।




















