০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক 2

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)।

নিহত ইউনুস আলী (৪৭) যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্তে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার—এসব ঘটনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে ইউনুস আলীকে হত্যা করা হয়।পরবর্তীতে সবুজ হোসেনের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তারা দ্রুত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ভুয়া প্রকল্পের নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে

বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক 2

আপডেট: ০৪:০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)।

নিহত ইউনুস আলী (৪৭) যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্তে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার—এসব ঘটনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে ইউনুস আলীকে হত্যা করা হয়।পরবর্তীতে সবুজ হোসেনের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তারা দ্রুত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।