চলমান পরীক্ষা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্যকে ‘গুজব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
রোববার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
-শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক যাচাই করা হচ্ছে এবং যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
তথ্য যাচাই না করে দ্রুত খবর ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতিকে **’ইনস্ট্যান্ট কফি’র** সঙ্গে তুলনা করে বলেন:
>”সোশ্যাল মিডিয়া এখন দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যাচাই না করেই মন্তব্য বা শেয়ার করছে। তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও ধৈর্যশীল হতে হবে এবং তথ্যের উৎস যাচাই করা জরুরি।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু **টেলিগ্রাম গ্রুপে** প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যার অধিকাংশ তথ্যই সত্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে সংবাদ প্রচার করলে জনমনে অহেতুক ভীতি তৈরি হয়। তাই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তবেই তা প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা। যারা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী সবাই যদি দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবেই শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও ভীতিহীন পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবে।”
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
—




















