সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন এলাকায় অবস্থিত জেলার কেন্দ্রীয় মন্দিরে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার মূল্যবান স্বর্ণালংকার, রুপা এবং দানবাক্সের নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চুরি হওয়া সম্পদের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, গভীর রাতে চোরেরা ‘মায়ের বাড়ি’ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে থাকা কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির এবং জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সুপরিকল্পিতভাবে প্রতিটি প্রতিমার গা থেকে অলংকার খুলে নেয় এবং দানবাক্স ভেঙে টাকা লুটে নেয়।
লুট হওয়া উল্লেখযোগ্য সামগ্রীর তালিকা:
* স্বর্ণালংকার: ৪ ভরি ওজনের দুই জোড়া বালা, ১ ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, ১০ আনা ওজনের নথ, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের জিব, ৮ আনা ওজনের চেইনসহ অন্যান্য গয়না।
* রুপা: প্রায় ৫ ভরি ওজনের বিভিন্ন অলংকার।
* নগদ অর্থ: দানবাক্স থেকে লুট হওয়া প্রায় ৭,০০০ টাকা।
ক্রমবর্ধমান চুরি ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র দুই দিন আগেই শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক উপাসনালয়ে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।” তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও জেলার মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
চুরির খবর পেয়ে বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা জানিয়েছেন, মন্দিরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে সন্দেহভাজনদের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





















