ইরানের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতে বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকার ১১টি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ (MQ-9) রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এতে পেন্টাগনের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশপথে নজরদারি ও নিখুঁত হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলো ইরানের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের গড় মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার হিসেবে ১১টি ড্রোনের মোট বাজারমূল্য ৩৩০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
‘
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমকিউ-৯ রিপার মূলত চালকবিহীন এমন এক আকাশযান যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির জন্য বিশ্বসেরা। তবে এটি মূলত এমন সব এলাকায় (যেমন: আফগানিস্তান বা ইরাকের নির্দিষ্ট অঞ্চল) সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যেখানে শক্তিশালী কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।
* প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে অসহায়: ইরানের মতো ভারী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন দেশের সীমানায় এই ড্রোনগুলো সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
* গতির সীমাবদ্ধতা: এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় মাত্র ৪৮০ কিলোমিটার। এর বিপরীতে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ঘণ্টায় ১,২০০ থেকে ১,৯০০ মাইল গতিতে উড়তে পারে। ফলে উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এই ড্রোনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এটি এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতির ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ ড্রোন হারানোয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি কার্যক্রমে ওয়াশিংটন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





















