০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

লোহাগড়ায় ক্রেতা সেজে জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: ৩৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ চক্রের ২ নারী সদস্য আটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩৬

নড়াইলের লোহাগড়া থানা মোড়ে ‘ক্রেতা’ সেজে এক অভিনব কৌশলে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে লোহাগড়া থানা মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘সজল জুয়েলার্স’-এ এই চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার কিছু সময় পরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চুরির চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা এই চক্রের দুই নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ভুক্তভোগী সজল জুয়েলার্সের মালিক শান্তি স্বর্ণকার (৬০) জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনি দোকান খোলেন। তার বসার চেয়ারের ওপর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ রাখা ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা কৌশলে তাকে বিভ্রান্ত করতে মেঝেতে টাকা পড়ে আছে বলে জানায়। শান্তি স্বর্ণকার নিচে তাকাতেই মুহূর্তের মধ্যে তার চোখের পলকে চেয়ারে রাখা ব্যাগটি নিয়ে তারা চম্পট দেয়।
শান্তি স্বর্ণকারের দাবি অনুযায়ী, চুরি যাওয়া ব্যাগে ছিল:
* স্বর্ণালংকার: আনুমানিক ৩৫ ভরি
* রুপা: ১০০ ভরি
* নগদ টাকা: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা

জুয়েলারি দোকানে চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই একই চক্র লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হানা দেয়। সেখানে এক নারীর গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের নজরে আসে তারা। জনতা ধাওয়া করে দুই নারীকে আটক করতে সক্ষম হলেও তাদের দলের অপর সদস্য হাসিনা বেগম (৩৪) কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটককৃতরা হলেন:
১. হাবিবা আক্তার (২৪): পিতা খোকন মিয়ার স্ত্রী, গ্রাম- ধর্মপুর, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
২. মরিয়ম খানম (৩০): পিতা আনোয়ার আলী, একই এলাকা।
পুলিশি তৎপরতা ও আইনগত ব্যবস্থা
আটককৃতদের লোহাগড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান:
> “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আটককৃতরা একটি অত্যন্ত সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শান্তি স্বর্ণকার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।”
>

সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে শার্শার লক্ষণপুরে বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত*

লোহাগড়ায় ক্রেতা সেজে জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: ৩৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ চক্রের ২ নারী সদস্য আটক

আপডেট: ১০:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়া থানা মোড়ে ‘ক্রেতা’ সেজে এক অভিনব কৌশলে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে লোহাগড়া থানা মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘সজল জুয়েলার্স’-এ এই চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার কিছু সময় পরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চুরির চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা এই চক্রের দুই নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ভুক্তভোগী সজল জুয়েলার্সের মালিক শান্তি স্বর্ণকার (৬০) জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তিনি দোকান খোলেন। তার বসার চেয়ারের ওপর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ রাখা ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা কৌশলে তাকে বিভ্রান্ত করতে মেঝেতে টাকা পড়ে আছে বলে জানায়। শান্তি স্বর্ণকার নিচে তাকাতেই মুহূর্তের মধ্যে তার চোখের পলকে চেয়ারে রাখা ব্যাগটি নিয়ে তারা চম্পট দেয়।
শান্তি স্বর্ণকারের দাবি অনুযায়ী, চুরি যাওয়া ব্যাগে ছিল:
* স্বর্ণালংকার: আনুমানিক ৩৫ ভরি
* রুপা: ১০০ ভরি
* নগদ টাকা: ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা

জুয়েলারি দোকানে চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই একই চক্র লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হানা দেয়। সেখানে এক নারীর গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের নজরে আসে তারা। জনতা ধাওয়া করে দুই নারীকে আটক করতে সক্ষম হলেও তাদের দলের অপর সদস্য হাসিনা বেগম (৩৪) কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটককৃতরা হলেন:
১. হাবিবা আক্তার (২৪): পিতা খোকন মিয়ার স্ত্রী, গ্রাম- ধর্মপুর, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
২. মরিয়ম খানম (৩০): পিতা আনোয়ার আলী, একই এলাকা।
পুলিশি তৎপরতা ও আইনগত ব্যবস্থা
আটককৃতদের লোহাগড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান:
> “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আটককৃতরা একটি অত্যন্ত সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শান্তি স্বর্ণকার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।”
>