যশোরের চৌগাছায় একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে পেট্রোল ও অকটেনে কেরোসিন মিশ্রণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন একাধিক মোটরসাইকেল চালক। ভেজাল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে মাঝপথে অনেকের মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। পাম্প মালিকের অস্বাভাবিক আর্থিক উত্থান ও সেবার মান নিয়ে এলাকায় এখন নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সরেজমিনে চৌগাছা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন চালক তাদের বিকল হয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করছেন, এই পাম্প থেকে তেল নেওয়ার পর থেকেই তাদের যানের ইঞ্জিন বিকল হতে শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদ হাসান জানান, গত শুক্রবার ওই পাম্প থেকে তেল নেওয়ার মাত্র দুই কিলোমিটার পরেই তার মোটরসাইকেলটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেকানিকের কাছে নিয়ে গেলে জ্বালানি ট্যাংকে পেট্রোলের সাথে কেরোসিনের মিশ্রণ পাওয়া যায়। একই ধরনের অভিযোগ করেন চালক দিপু আহমেদ ও হোমিও চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহমেদ। তারা জানান, তেল নেওয়ার পর থেকেই ইঞ্জিন স্টার্ট নিতে সমস্যা করছে এবং অনেককে পুরো গাড়ি সার্ভিসিং করাতে হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের কোষাধ্যক্ষ শাহজাহান আলী সরাসরি বিষয়টি অস্বীকার না করে বলেন, “আগামীকাল নতুন ডিপো আসবে। নতুন তেল এলে যাদের অভিযোগ রয়েছে, তাদের তেল পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহমদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তেলে আসলেও ভেজাল আছে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
স্থানীয়রা দ্রুত এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





















