০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

উলশীতে ফিরছে বিপ্লবের স্মৃতি: বাবার কাটা ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখননে আজ কোদাল হাতে নামছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

যশোরের শার্শা উপজেলার মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে ঐতিহাসিক স্বেচ্ছাশ্রমের বিপ্লব শুরু হয়েছিল, সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়া খাল’ আজ পুনঃখনন করতে আসছেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাবার দেখানো পথে হেঁটে প্রধানমন্ত্রী আজ নিজে কোদাল হাতে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উলশী-যদুনাথপুরসহ গোটা জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শার্শার উলশীতে এসে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেন। তিনি নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কাজের সূচনা করেছিলেন। সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর না করে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাত্র ৬ মাসে এই খালটি খনন করা হয়, যা পরবর্তীতে ‘সারথী প্রকল্প’ ও ‘সবুজ বিপ্লব’ হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি পায়। এই খালের কারণেই এলাকার প্রায় ২২ হাজার একর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না হওয়ায় ঐতিহাসিক এই খালটি গত কয়েক দশকে ভরাট হয়ে শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এর ফলে এলাকার কৃষকরা আবার জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে ভোগছিলেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই খালের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া। জনমানুষের সেই দাবির প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এটি পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন।
আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে উলশী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি সরাসরি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দা ওমর আলী, যিনি ১৯৭৬ সালেও জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলেন, তিনি বলেন:
“প্রেসিডেন্ট জিয়াকে দেখেছিলাম কোদাল হাতে মাটি কাটতে। আজ তাঁর ছেলেকে দেখতে পাচ্ছি একই কাজে। আমাদের দীর্ঘ ৫০ বছরের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। এই খাল সচল হলে আমাদের বিলগুলোতে আবার সোনার ফসল ফলবে।”

খালের পাড়ে অবস্থিত শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সেই ঐতিহাসিক ভবন এবং জিয়া মঞ্চ সংস্কারের দাবিও তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুনঃখনন প্রকল্পের পাশাপাশি এখানে একটি স্মৃতি জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বনির্ভরতার এই ইতিহাস জানাবে। যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে হত্যা ও বৃষ্টির অন্তর্ধান: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

উলশীতে ফিরছে বিপ্লবের স্মৃতি: বাবার কাটা ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখননে আজ কোদাল হাতে নামছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট: ১২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে ঐতিহাসিক স্বেচ্ছাশ্রমের বিপ্লব শুরু হয়েছিল, সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়া খাল’ আজ পুনঃখনন করতে আসছেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাবার দেখানো পথে হেঁটে প্রধানমন্ত্রী আজ নিজে কোদাল হাতে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উলশী-যদুনাথপুরসহ গোটা জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শার্শার উলশীতে এসে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেন। তিনি নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কাজের সূচনা করেছিলেন। সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর না করে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাত্র ৬ মাসে এই খালটি খনন করা হয়, যা পরবর্তীতে ‘সারথী প্রকল্প’ ও ‘সবুজ বিপ্লব’ হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি পায়। এই খালের কারণেই এলাকার প্রায় ২২ হাজার একর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না হওয়ায় ঐতিহাসিক এই খালটি গত কয়েক দশকে ভরাট হয়ে শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এর ফলে এলাকার কৃষকরা আবার জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে ভোগছিলেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই খালের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া। জনমানুষের সেই দাবির প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এটি পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন।
আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে উলশী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি সরাসরি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দা ওমর আলী, যিনি ১৯৭৬ সালেও জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলেন, তিনি বলেন:
“প্রেসিডেন্ট জিয়াকে দেখেছিলাম কোদাল হাতে মাটি কাটতে। আজ তাঁর ছেলেকে দেখতে পাচ্ছি একই কাজে। আমাদের দীর্ঘ ৫০ বছরের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। এই খাল সচল হলে আমাদের বিলগুলোতে আবার সোনার ফসল ফলবে।”

খালের পাড়ে অবস্থিত শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সেই ঐতিহাসিক ভবন এবং জিয়া মঞ্চ সংস্কারের দাবিও তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুনঃখনন প্রকল্পের পাশাপাশি এখানে একটি স্মৃতি জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বনির্ভরতার এই ইতিহাস জানাবে। যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।