মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের টানটান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নতুন কূটনৈতিক চাল দিল ইরান। যুদ্ধের অবসান ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রণালিটি পুনরায় সচল করার ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শর্তযুক্ত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম **অ্যাক্সিওস** এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা **রয়টার্স**-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সরাসরি নয় বরং পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে। ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে:
তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত।
এর বিনিময়ে তাদের প্রধান শর্ত হলো—পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা পরবর্তী ধাপের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে পরমাণু ইস্যুতে ইরানের ওপর যে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, তা থেকে তারা সাময়িক নিষ্কৃতি চায়।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট এই হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল। যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে ইরান প্রথমে এটি বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে অবরোধ জোরদার করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তেহরানের এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে:
চাপ কমার আশঙ্কা:** যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয় এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, তবে ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের প্রধান অস্ত্রটি হাতছাড়া হয়ে যাবে।
পরমাণু চুক্তিতে প্রভাব:** ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করা কিংবা দীর্ঘমেয়াদে সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি করানো তখন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এই প্রস্তাবের নেপথ্যে ইরানের ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী **আব্বাস আরাগচি** ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ও ওমান সফর শেষ করে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সমঝোতায় আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করাই এই সফরের উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ‘পর্দার আড়ালের’ আলোচনার ওপর। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনৈতিক টেবিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দরকষাকষি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




















