০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

উলশীতে ফিরছে সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি: বাবার দেখানো পথে কোদাল হাতে খাল খনন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী-যদুনাথপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান যে ঐতিহাসিক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থানেই আজ নতুন স্বপ্নের সারথী হয়ে আসছেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই মৃতপ্রায় উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আজ উলাশীপাড়ে যাচ্ছেন তিনি। এ উপলক্ষে গোটা শার্শাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দ উল্লাস আর সোনালি ফসল ফলানোর নতুন সম্ভাবনা।

পঁচাত্তরোর্ধ্ব প্রাক্তন আনসার সদস্য ওমর আলী সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে উলাশী প্রাইমারি স্কুল মাঠে নামেন। এরপর সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোদাল হাতে মাটি কাটতে শুরু করেন।

ওমর আলীর ভাষায়, *”প্রেসিডেন্ট জিয়া নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে করে রশিদ চাচার মাথায় তুলে দেন। এরপর আমরা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই শুধু দেশপ্রেমের টানে খাল কাটা শুরু করি। মাত্র ৬ মাসে সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন সম্পন্ন হয়েছিল।”*

তৎকালীন এই খাল খননের ফলে বনমান্দার, সোনামুখী, কাগমারী, রাজাপুরসহ পাঁচটি বিলের প্রায় ২২ হাজার একর জমি থেকে পানি নিষ্কাশিত হয়। যে জমিগুলো বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকত, সেখানে শুরু হয় সবুজ বিপ্লব।

এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল ‘সারথী প্রকল্প’। যার অধীনে ছিল:
* ১১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
* খালের দু’পাড়ে ১৫ হাজার খেজুর গাছ রোপণ।
* মহিলা সমিতি গঠন ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ।
* সেচ কাজের জন্য পাওয়ার পাম্প ও গভীর নলকূপ স্থাপন।
দীর্ঘ পাঁচ দশকে সংস্কারের অভাবে সাড়ে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি এখন মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বিলগুলোতে আবার জলাবদ্ধতা ও চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই খালটি পুনরায় খনন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া।

উপসংহার টেনে স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আজিজুল হক বলেন, *”এই খালটি দুই প্রজন্মের রাষ্ট্রপ্রধানের স্মৃতিবিজড়িত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এটি পুনঃখনন করতে আসছেন, এটি এলাকার জন্য বড় পাওনা। তবে শুধু খাল খননই নয়, এখানে শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যক্ত ভবনটিকে একটি ‘স্মৃতি জাদুঘর’ এবং এলাকাটিকে একটি বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা দরকার।”*
আজ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলশী-যদুনাথপুর বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্পের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। বাবার মতোই তিনি নিজে কোদাল হাতে এই কাজের সূচনা করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষকরা আবারও ‘সোনার ফসল’ ফলানোর আশায় বুক বেঁধেছেন।

“আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার।”** — এই স্লোগানকে ধারণ করেই আজ উলশীতে নতুন করে সূচিত হচ্ছে উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায়।

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে হত্যা ও বৃষ্টির অন্তর্ধান: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

উলশীতে ফিরছে সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি: বাবার দেখানো পথে কোদাল হাতে খাল খনন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট: ১১:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী-যদুনাথপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান যে ঐতিহাসিক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থানেই আজ নতুন স্বপ্নের সারথী হয়ে আসছেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই মৃতপ্রায় উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আজ উলাশীপাড়ে যাচ্ছেন তিনি। এ উপলক্ষে গোটা শার্শাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দ উল্লাস আর সোনালি ফসল ফলানোর নতুন সম্ভাবনা।

পঁচাত্তরোর্ধ্ব প্রাক্তন আনসার সদস্য ওমর আলী সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে উলাশী প্রাইমারি স্কুল মাঠে নামেন। এরপর সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোদাল হাতে মাটি কাটতে শুরু করেন।

ওমর আলীর ভাষায়, *”প্রেসিডেন্ট জিয়া নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে করে রশিদ চাচার মাথায় তুলে দেন। এরপর আমরা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই শুধু দেশপ্রেমের টানে খাল কাটা শুরু করি। মাত্র ৬ মাসে সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন সম্পন্ন হয়েছিল।”*

তৎকালীন এই খাল খননের ফলে বনমান্দার, সোনামুখী, কাগমারী, রাজাপুরসহ পাঁচটি বিলের প্রায় ২২ হাজার একর জমি থেকে পানি নিষ্কাশিত হয়। যে জমিগুলো বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকত, সেখানে শুরু হয় সবুজ বিপ্লব।

এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল ‘সারথী প্রকল্প’। যার অধীনে ছিল:
* ১১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
* খালের দু’পাড়ে ১৫ হাজার খেজুর গাছ রোপণ।
* মহিলা সমিতি গঠন ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ।
* সেচ কাজের জন্য পাওয়ার পাম্প ও গভীর নলকূপ স্থাপন।
দীর্ঘ পাঁচ দশকে সংস্কারের অভাবে সাড়ে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি এখন মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বিলগুলোতে আবার জলাবদ্ধতা ও চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই খালটি পুনরায় খনন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া।

উপসংহার টেনে স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আজিজুল হক বলেন, *”এই খালটি দুই প্রজন্মের রাষ্ট্রপ্রধানের স্মৃতিবিজড়িত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এটি পুনঃখনন করতে আসছেন, এটি এলাকার জন্য বড় পাওনা। তবে শুধু খাল খননই নয়, এখানে শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত পরিত্যক্ত ভবনটিকে একটি ‘স্মৃতি জাদুঘর’ এবং এলাকাটিকে একটি বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা দরকার।”*
আজ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলশী-যদুনাথপুর বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্পের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। বাবার মতোই তিনি নিজে কোদাল হাতে এই কাজের সূচনা করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষকরা আবারও ‘সোনার ফসল’ ফলানোর আশায় বুক বেঁধেছেন।

“আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার।”** — এই স্লোগানকে ধারণ করেই আজ উলশীতে নতুন করে সূচিত হচ্ছে উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায়।