যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অবৈধ মজুতদারী রুখতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশনে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালি সরকার।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এই ঝটিকা অভিযান শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি এবং কিছু অসাধু চক্রের মজুতদারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে ইউএনও পাম্পগুলোর তেলের বর্তমান মজুত যাচাই করেন এবং সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পাম্প মালিকদের কঠোর হুঁশিয়ারি
অভিযান চলাকালে ইউএনও ভূপালি সরকার পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন:
* কোনো অবস্থাতেই তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা যাবে না।
* অবৈধভাবে তেল মজুত করে রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
* প্রতিটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয় রসিদ (ভাউচার) প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইউএনও ভূপালি সরকার বলেন, “দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। তবে কিছু অসাধু চক্র মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে সরকারের নজরে এসেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে নির্ধারিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অযথা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা মজুত করবেন না।”
উপজেলা প্রশাসন জানায়, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং জনভোগান্তি লাঘবে এ ধরনের তদারকি ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।





















