০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

উদীচী হত্যাকাণ্ডের ২৭ বছর: বিচারহীনতার সংস্কৃতিই জঙ্গিবাদ বিস্তারের মূল কারণ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪১

যশোরে উদীচীর জাতীয় সম্মেলনে বর্বরোচিত বোমা হামলার ২৭ বছর পূর্ণ হলেও আজ পর্যন্ত নেপথ্যের কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বক্তাদের মতে, এই বিচারহীনতাই রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদের ডালপালা মেলার পথ প্রশস্ত করেছে। যদি শুরুতেই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করা যেত, তবে পরবর্তী সময়ে জঙ্গিবাদ এত ভয়াবহ রূপ নিতে পারত না।
শুক্রবার বেলা ১১টায় যশোর শহরের ঈদগাহ মোড়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে সংঘটিত সেই নৃশংস বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিচারহীনতার দুই যুগ: ক্ষুব্ধ সাংস্কৃতিক অঙ্গন
‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’ শীর্ষক এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু। সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই যুগের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তদন্তের গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

* একরাম-উদ-দ্দৌলা, সভাপতি, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ।
* অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
* সানোয়ার আলম খান দুলু, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
* ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সভাপতি, চাঁদের হাট যশোর।

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ গভীর রাতে যশোর টাউন হল মাঠে যখন হাজারো মানুষ বাউল গানের সুরে বিমোহিত, তখনই মঞ্চের নিচে রাখা দুটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আনন্দ অনুষ্ঠান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেই নৃশংস হামলায় ১০ জন সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন দেড় শতাধিক।
দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সেই দুঃসহ স্মৃতি ও শারীরিক পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেই রাতে পা হারানো সাংস্কৃতিক কর্মী সুকান্ত দাস এবং উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ঝিকরগাছায় উচ্ছেদ অভিযান, দখলমুক্ত করা হচ্ছে রাস্তা ও ফুটপাত

উদীচী হত্যাকাণ্ডের ২৭ বছর: বিচারহীনতার সংস্কৃতিই জঙ্গিবাদ বিস্তারের মূল কারণ

আপডেট: ০৪:২২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

যশোরে উদীচীর জাতীয় সম্মেলনে বর্বরোচিত বোমা হামলার ২৭ বছর পূর্ণ হলেও আজ পর্যন্ত নেপথ্যের কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বক্তাদের মতে, এই বিচারহীনতাই রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদের ডালপালা মেলার পথ প্রশস্ত করেছে। যদি শুরুতেই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করা যেত, তবে পরবর্তী সময়ে জঙ্গিবাদ এত ভয়াবহ রূপ নিতে পারত না।
শুক্রবার বেলা ১১টায় যশোর শহরের ঈদগাহ মোড়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে সংঘটিত সেই নৃশংস বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিচারহীনতার দুই যুগ: ক্ষুব্ধ সাংস্কৃতিক অঙ্গন
‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’ শীর্ষক এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু। সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই যুগের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তদন্তের গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

* একরাম-উদ-দ্দৌলা, সভাপতি, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ।
* অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
* সানোয়ার আলম খান দুলু, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
* ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সভাপতি, চাঁদের হাট যশোর।

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ গভীর রাতে যশোর টাউন হল মাঠে যখন হাজারো মানুষ বাউল গানের সুরে বিমোহিত, তখনই মঞ্চের নিচে রাখা দুটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আনন্দ অনুষ্ঠান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেই নৃশংস হামলায় ১০ জন সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন দেড় শতাধিক।
দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সেই দুঃসহ স্মৃতি ও শারীরিক পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেই রাতে পা হারানো সাংস্কৃতিক কর্মী সুকান্ত দাস এবং উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।