প্রতিষ্ঠার পর বিগত ৪০ বছরে এমন অস্তিত্ব সংকটে আর কখনো পড়েনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরেও এবার ধস নেমেছে দলটির। লাঙল প্রতীক নিয়ে সারা দেশের ১৯৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একটি আসনও জিততে পারেনি তারা। এমনকি দলের শীর্ষ দুই নেতা—চেয়ারম্যান ও মহাসচিবও নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, খোদ জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় হয়েছেন। একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে; গাইবান্ধা-১ আসনে তিনিও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, রংপুরের যে আসনটি দীর্ঘকাল এরশাদের ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক ও জাপার নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এবার বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি লাঙল সামনে রেখে প্রতিকী জানাজা পড়ছেন কিছু মানুষ। নেটিজেনরা ছবিটি শেয়ার করে মন্তব্য করছেন— “রংপুরের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙলের জানাজা সম্পন্ন হলো।” এই ছবিটিকে কেন্দ্র করে জাপার একনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই একে একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা এবং তৃণমূলের সাথে দূরত্বই জাপার এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। যে রংপুরকে জাপা নিজেদের ‘জীবন’ মনে করত, সেই জনপদ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভোটাররা।




















