যশোরের ঝিকরগাছায় এনজিও প্রতিষ্ঠান আরআরএফের (রুরাল রিকন্সট্রাকশন ফাউন্ডেশন) গেস্ট হাউজে এক কর্মকর্তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের পিয়ন যোহন বিশ্বাস ওরফে জন বিশ্বাসকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গত ২৮ জানুয়ারি ঘটলেও শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আটক যোহন বিশ্বাস ঝিকরগাছার শিমুলিয়া গ্রামের মৃত জোসেফ পিদমন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা, যিনি আরআরএফের যশোর কার্যালয়ের একজন নারী কর্মকর্তা, বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভিকটিম কিশোরী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বাড়িতেই থাকতেন। তার মা প্রতিদিন সকালে যশোরে কর্মস্থলে যেতেন এবং রাতে ফিরতেন। গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তিনি মেয়েকে খুঁজে পাননি। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত যোহন বিশ্বাস মোটরসাইকেলে করে ওই কিশোরীকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে জানায়, ‘যোহন মামা’ তাকে আরআরএফের গেস্ট হাউজে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে ওই নারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের বাড়িতে কৈফিয়ত চাইতে গেলে যোহন ও তার বড় ভাই সুনীল বিশ্বাস তাকে মারধর করে আহত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি শুরু থেকেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ভিকটিমকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়। শুক্রবার জানাজানি হওয়ার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার এসআই মোল্লা রেজাউল করিম জানান:
> “অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২৯ জানুয়ারি রাতেই শিমুলিয়া মোড় এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত যোহন বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি সুনীল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
>
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিকটিমের মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধান আসামি ধরা পড়লেও তার ভাই সুনীল বিশ্বাস এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি দ্রুত দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।





















