০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে নজরদারি জোরদার করতে হলদিয়ায় নতুন নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৩

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে সামুদ্রিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী।
চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ তৎপরতা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে বদলাতে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

্শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি পূর্ণাঙ্গ নৌ কমান্ড না হয়ে একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ছোট ও উচ্চগতির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

ভারতের নৌবাহিনী হলদিয়া বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই দ্রুত ঘাঁটিটি চালু করতে চায়। প্রাথমিকভাবে একটি আলাদা জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম রাখা যায়।
এই ঘাঁটিতে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ (এফআইসি) এবং প্রায় ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও উপকূলীয় অভিযানের জন্য উপযোগী।
নৌযানগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান বসানো থাকবে। পাশাপাশি নজরদারি ও নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে নাগাস্ত্রের মতো টহলদারি ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌ ঘাঁটি স্থাপনের পেছনে একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে, যা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এ ছাড়া সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভারত-বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অঞ্চলের অগভীর পানি এবং ঘন নৌযান চলাচলের কারণে দ্রুতগতির ছোট যুদ্ধজাহাজগুলো এই এলাকায় বিশেষভাবে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে চীনের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বাড়তে থাকা বিনিয়োগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কও ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।নতুন এই নৌ ঘাঁটিটি আকারে তুলনামূলক ছোট হবে। সেখানে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন করা হতে পারে। ফলে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি না হয়ে একটি অপারেশনাল ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়ার অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে হুগলি নদী দিয়ে দীর্ঘ সময়ের যাত্রা এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানো সহজ হবে।
বর্তমানে ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বড় নৌঘাঁটি রয়েছে।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, হলদিয়ার জন্য জমি আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল, তবে নানা কারণে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। নতুন এই উদ্যোগ নৌবাহিনীর সামগ্রিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হলদিয়ায় নতুন এই নৌ ঘাঁটি যুক্ত হলে বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।

সর্বাধিক পঠিত

চতুর্থ দিনের গণসংযোগে ছোট আঁচড়ায় ইমদাদ, শুনলেন নাগরিক দুর্ভোগের কথা

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে নজরদারি জোরদার করতে হলদিয়ায় নতুন নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

আপডেট: ০৮:৫২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে সামুদ্রিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী।
চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ তৎপরতা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে বদলাতে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

্শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি পূর্ণাঙ্গ নৌ কমান্ড না হয়ে একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ছোট ও উচ্চগতির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

ভারতের নৌবাহিনী হলদিয়া বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই দ্রুত ঘাঁটিটি চালু করতে চায়। প্রাথমিকভাবে একটি আলাদা জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম রাখা যায়।
এই ঘাঁটিতে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ (এফআইসি) এবং প্রায় ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও উপকূলীয় অভিযানের জন্য উপযোগী।
নৌযানগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান বসানো থাকবে। পাশাপাশি নজরদারি ও নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে নাগাস্ত্রের মতো টহলদারি ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌ ঘাঁটি স্থাপনের পেছনে একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে, যা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এ ছাড়া সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভারত-বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অঞ্চলের অগভীর পানি এবং ঘন নৌযান চলাচলের কারণে দ্রুতগতির ছোট যুদ্ধজাহাজগুলো এই এলাকায় বিশেষভাবে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে চীনের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বাড়তে থাকা বিনিয়োগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কও ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।নতুন এই নৌ ঘাঁটিটি আকারে তুলনামূলক ছোট হবে। সেখানে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন করা হতে পারে। ফলে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি না হয়ে একটি অপারেশনাল ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়ার অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে হুগলি নদী দিয়ে দীর্ঘ সময়ের যাত্রা এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানো সহজ হবে।
বর্তমানে ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বড় নৌঘাঁটি রয়েছে।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, হলদিয়ার জন্য জমি আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল, তবে নানা কারণে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। নতুন এই উদ্যোগ নৌবাহিনীর সামগ্রিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হলদিয়ায় নতুন এই নৌ ঘাঁটি যুক্ত হলে বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।