যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় এক কলেজছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী কাজল রেখা।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তাঁর মা মাজেদা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত হিসেবে বাগআঁচড়া গ্রামের ইমন হোসেন (২৬), আলী আহমদ (৫৫) ও মো. আবু হোসেনের নাম উল্লেখ করেন কাজল রেখা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের মৃত জালাল হোসেনের মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির কথিত নির্যাতন, হয়রানি ও হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
কাজল রেখার অভিযোগ, স্থানীয় একটি মাদকসেবী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে উত্ত্যক্ত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি করে আসছেন। একই সঙ্গে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারটিকে গ্রামছাড়া করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাজারে যাওয়ার পথে আলী আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইমন হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
কাজল রেখা জানান, এসব বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেছেন। সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর ইমন হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁর। বরং অভিযুক্তদের হুমকি ও হয়রানির কারণে পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজল রেখা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।












