বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক (ডিডি) দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সামাল দিতে দীপক কুমার দাস বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত একটি এক্স-করোলা গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশিত সংবাদ ধামাচাপা দিতে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের দাবি, বিএডিসির প্রধান কার্যালয়ের একজন পরিচালক দীপক কুমার দাসকে রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের সূত্র ধরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীপক কুমার দাসের চট্টগ্রাম শহরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহারে থাকা একটি এক্স-করোলা গাড়িটি চালক হামিম ওরফে ‘ভাগিনা হামিম’-এর নামে নিবন্ধিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বর্ণ ব্যবসায় ৭ শতাংশ লভ্যাংশের ভিত্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ, বান্দরবানের বালাঘাটায় তাঁর স্ত্রী দীপ্তি দাসের নামে ছয় একর জমি এবং বান্দরবান জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়ার মাধ্যমে ২০টি ট্রাক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ এবং বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম শহর ও মিরসরাই এলাকায় আরও সম্পদ থাকার দাবিও করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
দীপক কুমার দাসের দায়িত্বাধীন পার্বত্য জেলাগুলোর নার্সারি প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষকদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা কাজুবাদামের চারা নামমাত্র বিতরণ করে বাকি চারা স্থানীয় নার্সারি মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নারিকেলের চারা উৎপাদন প্রকল্পে চারা নষ্ট দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিএডিসির বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির একটি নার্সারি প্রকল্পের ১৫ একর সরকারি জমি মাসিক দুই লাখ টাকায় ইজারা দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে দীপক কুমার দাসকে অন্যত্র বদলি করা হলেও তৎকালীন এক বিএডিসি পরিচালকের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছিল।
এ ছাড়া রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিএডিসির অনিয়মের অভিযোগে প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত গেলে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে নিজের পক্ষে প্রতিবেদন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের একটি সূত্রের দাবি, বর্তমানে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চট্টগ্রাম জোনের একজন উপপরিচালকের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন দীপক কুমার দাস।
সরকারি জ্বালানি ব্যবহার করে তাঁর নামে বরাদ্দ করা গাড়ি পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।




















