০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১২

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দায়িত্ব পালনে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, এখনো তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে, স্মারক নম্বর ১২.০০.০০০০.০৮৩.০১১.০০১৯.২৬.২৪৬ অনুযায়ী নুরুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও নুরুল ইসলাম প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে গত ৬ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা দরপত্রের নোটিশ আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং তাঁদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া নিজের বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির করার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিএডিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর সংস্থার চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রকৌশলী তাঁকে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেই নির্দেশ যথাযথভাবে পালন না করে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ বণ্টনের বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা দরপত্রে প্রায় ২৫০টি নির্মাণকাজ রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে কয়েকটি কাজের দরপত্রে পছন্দের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগাম অনলাইন দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

এ ছাড়া দরপত্রের নোটিশে উল্লেখ করা কয়েকটি খাল এরই মধ্যে পুনঃখনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু দরপত্র আইডির বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নেই বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

পাশাপাশি প্রায় ৫০ গ্রুপ মালামাল সরবরাহের কাজেও অনিয়মের পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিএসসি সভায় প্রকল্পটির দরপত্র গ্রহণের সময় আরও ১৫ দিন বাড়ানোর বিষয়ে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এ কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

বিএডিসির নথিপত্র পর্যালোচনার বরাতে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুরুল ইসলাম ২০২১ সালে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের’ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় চার মাস পরই দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য উৎকোচ গ্রহণ এবং প্রকল্পের গাড়ি সরবরাহের কাজে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।

এর পর তাঁকে হবিগঞ্জ অঞ্চলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে হবিগঞ্জেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। হবিগঞ্জ অফিস ভবন নির্মাণকাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগের পর বিএডিসির অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে ভবন নির্মাণের প্রায় ৩৬টি খাতে অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে নির্মাণকাজের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়া, বাইরের অংশের সিরামিক উঠে যাওয়া, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং কিছু কাজ সম্পন্ন না করেও নথিতে সম্পন্ন দেখানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়।

তবে ওই তদন্তের পর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে হবিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

পরবর্তী সময়ে নুরুল ইসলাম চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।

বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠার পরও তাঁর বিরুদ্ধে বদলি ছাড়া কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় একই ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তাঁদের অভিযোগ, নুরুল ইসলাম নিজেই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপত্র আহ্বানকারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হলে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সরকারি ক্রয়বিধি ও দরপত্র ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নথিপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি একসঙ্গে প্রায় ২৫০টি উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত প্রকল্পের উন্নয়নকাজ পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কাজ শুরু হলে জনবল ও তদারকির সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের মান নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চট্টগ্রামে একসঙ্গে প্রায় ৩০০টি কাজের দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে পদচ্যুতির পর তিনি প্রকল্পের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছেন কি না, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা, আগাম দরপত্র দাখিলের অভিযোগ এবং প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে দরপত্রগুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি উঠেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে বর্তমানে তিনটি দুর্নীতি মামলা চলমান রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের বিস্তারিত এবং আদালতের আদেশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

নুরুল ইসলামের বক্তব্য: পদচ্যুতির পর দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

চতুর্থ দিনের গণসংযোগে ছোট আঁচড়ায় ইমদাদ, শুনলেন নাগরিক দুর্ভোগের কথা

বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসির অভিযোগ

আপডেট: ১২:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দায়িত্ব পালনে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, এখনো তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে, স্মারক নম্বর ১২.০০.০০০০.০৮৩.০১১.০০১৯.২৬.২৪৬ অনুযায়ী নুরুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও নুরুল ইসলাম প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে গত ৬ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা দরপত্রের নোটিশ আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং তাঁদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া নিজের বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির করার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিএডিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর সংস্থার চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রকৌশলী তাঁকে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেই নির্দেশ যথাযথভাবে পালন না করে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ বণ্টনের বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা দরপত্রে প্রায় ২৫০টি নির্মাণকাজ রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে কয়েকটি কাজের দরপত্রে পছন্দের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগাম অনলাইন দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

এ ছাড়া দরপত্রের নোটিশে উল্লেখ করা কয়েকটি খাল এরই মধ্যে পুনঃখনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু দরপত্র আইডির বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নেই বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

পাশাপাশি প্রায় ৫০ গ্রুপ মালামাল সরবরাহের কাজেও অনিয়মের পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিএসসি সভায় প্রকল্পটির দরপত্র গ্রহণের সময় আরও ১৫ দিন বাড়ানোর বিষয়ে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এ কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

বিএডিসির নথিপত্র পর্যালোচনার বরাতে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুরুল ইসলাম ২০২১ সালে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের’ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় চার মাস পরই দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য উৎকোচ গ্রহণ এবং প্রকল্পের গাড়ি সরবরাহের কাজে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।

এর পর তাঁকে হবিগঞ্জ অঞ্চলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে হবিগঞ্জেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। হবিগঞ্জ অফিস ভবন নির্মাণকাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগের পর বিএডিসির অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে ভবন নির্মাণের প্রায় ৩৬টি খাতে অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে নির্মাণকাজের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়া, বাইরের অংশের সিরামিক উঠে যাওয়া, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং কিছু কাজ সম্পন্ন না করেও নথিতে সম্পন্ন দেখানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়।

তবে ওই তদন্তের পর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে হবিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

পরবর্তী সময়ে নুরুল ইসলাম চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।

বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠার পরও তাঁর বিরুদ্ধে বদলি ছাড়া কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় একই ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তাঁদের অভিযোগ, নুরুল ইসলাম নিজেই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপত্র আহ্বানকারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হলে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সরকারি ক্রয়বিধি ও দরপত্র ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নথিপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি একসঙ্গে প্রায় ২৫০টি উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত প্রকল্পের উন্নয়নকাজ পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কাজ শুরু হলে জনবল ও তদারকির সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের মান নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চট্টগ্রামে একসঙ্গে প্রায় ৩০০টি কাজের দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে পদচ্যুতির পর তিনি প্রকল্পের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছেন কি না, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা, আগাম দরপত্র দাখিলের অভিযোগ এবং প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে দরপত্রগুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি উঠেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মস্থলে বর্তমানে তিনটি দুর্নীতি মামলা চলমান রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের বিস্তারিত এবং আদালতের আদেশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

নুরুল ইসলামের বক্তব্য: পদচ্যুতির পর দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।